শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ এএম |

অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির আশীর্বাদের পাশাপাশি অপরাধও বাড়ছে। প্রতিনিয়ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে ভার্চুয়াল জগৎ। স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। এতে পৃথিবী যতটা আধুনিকতার দিকে এগোচ্ছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ; যার অন্যতম অপরাধমূলক তৎপরতা হচ্ছে অনলাইন জুয়া ও বেটিং। কিছুদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে জুয়ার আসক্তিতে ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এসব বেটিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ছদ্মবেশী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও বেটিং চক্র পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া গুগল প্লে-স্টোরে সাধারণ গেমের আড়ালে ক্যাসিনো স্লট, তিন পাত্তি গোল্ড এবং বিভিন্ন লাইভ ডিলার অ্যাপের মাধ্যমেও জুয়া খেলা চলছে। এই চক্রগুলো ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবে ভুয়া বিজ্ঞাপন ও সেলিব্রিটিদের প্রচারণাকে ব্যবহার করে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন মাধ্যমের চিহ্নিত কিছু অ্যাপ, সাইট বা ছদ্মবেশী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (ডার্ক ওয়েব) জুয়া ও বেটিংয়ের মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষ আসক্ত বা মগ্ন হয়ে পড়ছেন। এই জুয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ কামানোর লোভে ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকেই। যেখানে মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমতা (এআই) নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অ্যাপ বা সাইট। অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো কোনো সাধারণ ভাগ্যের খেলা নয়, বরং এগুলো ব্যবহারকারীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত আ্যালগরিদম এবং সাইকোলজিক্যাল ট্র্যাপ (মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। প্ল্যাটফর্মে এমনভাবে লোভনীয় প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারী ধারাবাহিক কয়েকটি গেম জেতার পর বড় অঙ্কের অর্থ বাজি ধরছেন, আর এতে করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
জুয়াড়িরা প্রধানত ভিপিএন ব্যবহার করে ব্লক করা সাইটগুলোতে প্রবেশ করে। এটা তারা করে থাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এড়ানোর জন্য। এরপর লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশীয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), যেমন বিকাশ, নগদ ও রকেটের ব্যক্তিগত এবং এজেন্ট নম্বর ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে টাকা সংগ্রহ করে। পরবর্তী সময়ে এই অর্থ কিপটোকারেন্সি (বিটকয়েন বা ইউএসডিটি) কিংবা অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যাসিনো ওয়ালেটে পাচার করে থাকে। এ রকম তথ্য পুলিশের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনাকারী ও এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সিআইডি অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থ পাচার কার্যক্রম এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে।
অনলাইন জুয়া ও বেটিং সর্বস্বান্ত হওয়ার এক ভয়ংকর ফাঁদ। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করেছে সরকার। জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা করাকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আইনের অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য। এর পরও থেমে নেই অপরাধ। তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতের জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর আসক্তি থেকে ফেরাতে এবং জুয়া বেটিংয়ের মনস্তাত্বিক ফাঁদের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। অবৈধ আর্থিক লেনদেন, অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক খুঁজতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২