শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সঠিক কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ এএম |

সঠিক কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা জরুরি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে বছরের পর বছর নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না। বিপুল বরাদ্দ, উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে; যা খুবই উদ্বেগজনক। তথ্যমতে, ২০১৮ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জনে। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৬৭ লাখ। শিক্ষার্থী ধরে রাখতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবার, স্কুলব্যাগ, জুতা, পোশাকসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিপুল অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। এর পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা বেড়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বিদ্যালয় থেকে কমে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কতজন শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা কিংবা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে এবং কতজন ঝরে পড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই। করোনার সময় থেকেই এ প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় কারণ, দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি ও শিক্ষায় বৈষম্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সরকারের উচিত এ-সংক্রান্ত গবেষণা ও সমস্যার কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত তথ্যমতে, শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র এক নয়। শহরের বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি তুলনামূলক ভালো হলেও গ্রামাঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কম। মাঠপর্যায়ের কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে এমনই চিত্র পেয়েছেন প্রতিবেদকরা। শিক্ষকরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সংকট, কৃষি ও পারিবারিক কাজে শিশুদের যুক্ত হওয়া, অভিভাবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অন্যত্র চলে যাওয়া এবং পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। মাধ্যমিক পর্যায়ে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহের মতো কারণ। শহরাঞ্চলে আবার সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ায় শিক্ষার্থী ধরে রাখার প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যোগাযোগের ঘাটতি। এ ছাড়া ঝরে পড়া শিশুদের একটি অংশ শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। পরিবারগুলো অনেক ক্ষেত্রে জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানদের ছোটখাটো কাজ, ঘের বা বিভিন্ন শ্রমে নিয়োজিত করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকল্প শিক্ষাধারার দিকেও একটি অংশ ঝুঁকছে।
অনেকে সন্তানকে কওমি মাদ্রাসা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, দারিদ্র্য, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাদ্রাসায় সহজে ভালো ফলাফল করার সুযোগ থাকায় অভিভাবকরা দিন দিন এ ধারার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমার চিত্র আরও ভয়াবহ। শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়া, মেয়েদের বাল্যবিবাহ, শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ, শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি ও মাদকাসক্ত হওয়া, কিশোর গ্যাং ও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, এর বড় কারণ ঘন ঘন কারিকুলাম পরিবর্তন। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কোনো ব্লু-প্রিন্ট নেই। আমাদের দেশে আগে পাঠ্যবইয়ের কনটেন্ট পরিবর্তন করা হয়, এরপর কারিকুলাম। সব সরকার জনপ্রিয় ও চটকদার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে স্মার্ট বোর্ড নাকি স্মার্ট শিক্ষক- কোনটি আগে দরকার। সরকারকে ঠিক করতে হবে কওমিতে কত শতাংশ শিক্ষার্থী পড়বে, সরকারি প্রাথমিকে আর অন্যগুলোতে কত শতাংশ পড়বে। গড়ে সব করতে গেলে কোনো লক্ষ্যই পূরণ হবে না।
সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমার এ প্রবণতা থামাতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার এ দুর্বলতা কমাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমস্যা শেষ পর্যন্ত পুরো শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই শুধু স্কুল নির্মাণ করে অর্থের অপচয় নয়, এ ক্ষেত্রে যাতায়াত ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। ঝরে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত হোম ভিজিট বাড়াতে হবে। সর্বোপরি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমার কারণ অনুসন্ধান করতে গবেষণা বাড়াতে হবে। আশা করছি, সরকার গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার গতানুগতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২