বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
গোমতীর চরে মুলা চাষে তোতা মিয়ার সাফল্য
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ এএম আপডেট: ০৭.১০.২০২৬ ১:০২ এএম |


  গোমতীর চরে মুলা চাষে  তোতা মিয়ার সাফল্য কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাচিয়াতল মৌজায় গোমতী নদীর চরে উঁচু-নিচু ও দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে মুলা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক তোতা মিয়া ও তার ছেলে আবদুল্লাহ। কম খরচে ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। তাদের সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও চরাঞ্চলের পতিত জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
শুধু দুর্গাপুর নয়, সদর উপজেলার আমড়াতলী, পাঁচথুবী এবং বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের গোমতীর বিস্তীর্ণ চর ও নদীর বেড়িবাঁধের উভয় পাশে এবার মুলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে। গত বছর মুলা চাষ করে অনেকে লোকসানে পড়লেও এবার ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তোতা মিয়ার বাড়ির পশ্চিম ও উত্তর পাশে গোমতী নদীর চরের উর্বর জমিতে সারি সারি সবজি চাষ হয়েছে। কোথাও মুলার বিশাল ক্ষেত, আবার কোথাও মাচায় ঝুলছে লম্বা লাউ। মাঠজুড়ে দেখা যায় কচি ও পরিপক্ব লাউয়ের পাশাপাশি বেগুন, শসা, করলা, চালকুমড়া, ঝিঙে ও লালশাকের চাষ।
তোতা মিয়া ও তার ছেলেরা শ্রমিক দিয়ে জমি থেকে মুলা উত্তোলন করে পুকুরে ধুয়ে ট্রাকে করে কুমিল্লা শহর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠাচ্ছেন।
জমি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর জানান, প্রায় দুই একর বা ১৮০ শতক জমিতে মুলা চাষে মোট খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার মুলা বিক্রি হয়েছে। জমি থেকেই পাইকাররা মুলা কিনে নিচ্ছেন। নিজেদের গাড়িতে করে পাইকারি বাজারে নিলে প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় দুই লাখ টাকার মুলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা।
কৃষক আবদুল্লাহ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে মুলা বাজারজাত শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার মুলা বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লা শহর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় মুলা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, গত শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে মুলার বীজ বপন করা হয়। প্রায় দুই মাস পরিচর্যার পর ব্যাপক ফলন পাওয়া গেছে। মুলার পাশাপাশি বেগুন, করলা, টমেটো, লাউ, শসা, চালকুমড়া, ঝিঙে ও লালশাক চাষেও তারা সফলতা পেয়েছেন। ধান ও ঢেঁড়স চাষেও এলাকায় তাদের সুনাম রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ও জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় দুই একর জমি বছরের অধিকাংশ সময় পরিত্যক্ত পড়ে থাকত। এবার তোতা মিয়া ও তার ছেলেরা নিজেদের উদ্যোগে সেই জমিতে মুলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও পরিত্যক্ত জমি কাজে লাগিয়ে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পাশের শিমুলখাড়া ও ষোলনল এলাকাতেও কয়েকজন কৃষক একইভাবে চরাঞ্চলের জমিতে লালশাক, ঢেঁড়স ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, কম খরচে উচ্চফলনশীল জাতের মুলা চাষে ভালো লাভ করা সম্ভব। বীজ বপনের ৫-৭ দিনের মধ্যে চারা গজায়। প্রায় ৪২-৪৫ দিনের মধ্যে মুলার সাদা অংশ ও পাতা পরিপক্ব হতে শুরু করে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে তা বাজারজাত করা যায়। বাজারে চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের মুলা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উঠান বৈঠক ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করাই কৃষি বিভাগের লক্ষ্য।
কৃষক আবদুল্লাহ জানান, জমিতে জৈব সারের পাশাপাশি সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। কীটনাশক ও বালাইনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয়নি। ফলে উৎপাদিত মুলা নিরাপদ হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে।
মাত্র দুই মাসে পরিত্যক্ত চরজমিতে কম খরচে ভালো ফলন ও আয় পাওয়ায় খুশি তোতা মিয়া, তার ছেলে আবদুল্লাহ ও জাহাঙ্গীরসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের সাফল্য এখন গোমতীর চরাঞ্চলের অন্য কৃষকদেরও নতুন করে উৎসাহিত করছে।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২