শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
অলিম্পিয়াডে আশাভঙ্গ, দেশের দাবা নিয়ে নতুন উপলব্ধি নিয়াজ মোরশেদের
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ এএম আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ১:৩৭ এএম |




 অলিম্পিয়াডে আশাভঙ্গ, দেশের দাবা নিয়ে নতুন উপলব্ধি নিয়াজ মোরশেদের
গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদের কাঁধে এখন দেশের দাবার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নতুন ভার। গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার ২ মাসের মাথায় উজবেকিস্তানের সমরখন্দে ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ওপেন বিভাগে ফাহাদ-মনন রেজাদের সঙ্গী হয়েছিলেন তিনি। ২৭ সেপ্টম্বর শেষ হওয়া প্রতিযোগিতায় আশা ভঙ্গের হতাশা নিয়ে ফিরে এখন দেশের দাবায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা সাজাতে চান নিয়াজ।
জাতীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় বোর্ডের খেলোয়াড়দের রেটিং ২৪০০-২৫০০-এ আনার ভাবনা আছে তাঁর। দলকে অলিম্পিয়াডে নিয়মিত ‘সেরা ৫০’-এ রাখতে চান। সমরখন্দ থেকে নতুন চিন্তা নিয়ে ফেরা নিয়াজ গতকাল সন্ধ্যায় দাবা ফেডারেশন কার্যালয়ে বসে বলেন, ‘শুধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ বা রুটিন কাজের পেছনে অর্থ বা সময় নষ্ট না করে ৪ থেকে ৬ বছর বয়স থেকেই শিশুদের তুলে আনতে হবে। এখন ১১-১২ বছরে গ্র্যান্ডমাস্টার হচ্ছে, ৯-১০ বছরে শুরু করলে অনেক দেরি হয়ে যায়।’
কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকেও নজর দিচ্ছেন দাবা ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক। দেশে পর্যাপ্ত কোচ থাকলেও অনুশীলনের নিজস্ব ও স্থায়ী সুবিধা নেই। তাই পৃষ্ঠপোষক এবং সরকারি বরাদ্দ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নারী দাবার মানসিক ও টেকনিক্যাল মান বাড়াতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও ইয়োগার মতো মানসিক প্রস্তুতির স্থায়ী ব্যবস্থাও দীর্ঘ মেয়াদে চালুর পরিকল্পনা নিয়েছেন।
অলিম্পিয়াডে দলগত ফল হতাশাজনক হলেও নতুন ও মানসম্মত খেলোয়াড় উঠে না আসা পর্যন্ত জাতীয় দলের স্বার্থেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলে যেতে চান নিয়াজ, ‘হুট করে আমি অবসর নিলে জাতীয় দলে বড় শূন্যতা তৈরি হবে। অলিম্পিয়াডে এখনো আমার চেয়ে বেশি বয়সের অনেক আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়মিত খেলছেন।’
এবারের অলিম্পিয়াডে ওপেন বিভাগে ২০৪ দেশের ২০৬টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৭তম (১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট) এবং মহিলা বিভাগে ১৮৭ দেশের ১৮৯টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ হয়েছে ৮৪তম (১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট)। অথচ দুই বিভাগেই লক্ষ্য ছিল ৫০-এর নিচে থাকা। সেটা না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নিয়াজ বলেন, ‘ওপেনে ২০০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ “বি” ক্যাটাগরির দল হিসেবে খেলছে। আমরা সাধারণত র‌্যাংঙ্কিংয়ে ৫০ থেকে ৭০-এর ঘরে থাকি, সাম্প্রতিক বছরে ৫০-এর নিচে খুব কমই আসা গেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ৫০-এর মধ্যে থাকা। দুর্বল দলগুলোর সঙ্গে আমরা ভালো ব্যবধানে জিতেছি (যেমন সাড়ে ৩ বা ৪-০)। কিন্তু ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও ডেনমার্কের সঙ্গে ড্র করা ছাড়া শক্তিশালী তুরস্ক, মন্টেনিগ্রো, জর্জিয়া, বেলারুশের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল।’
তরুণ খেলোয়াড় ফাহাদ রহমান, মনন রেজা ও তাহসিন তাজওয়াররা ব্যর্থ হয়েছেন। ফাহাদ আর মনন অলিম্পিয়াডের ঠিক আগে অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁরা অতিরিক্ত ক্লান্ত ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সমরখন্দে আসায় তাঁদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
১৯৮৪ সালে শুরু করে এবার নিজের ১০ম অলিম্পিয়াড খেলেছেন নিয়াজ। শুরুর দিকে বেশ ভালো খেললেও শেষ দুটি ম্যাচে জেতার অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ভালো খেলেননি বলে জানিয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব বয়সের কিছুটা প্রভাব ছিল, তবে সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলাদেশ দলের মধ্যে শুধু তাঁরই কিছুটা রেটিং বেড়েছে অলিম্পিয়াডে।
বৈশ্বিক দাবায় নিয়াজের পুরোনো বন্ধুদের অনেকেই এখন কোচ। নিয়াজকে এখনো খেলতে দেখে তাঁরা কী বলেন? শুনুন তাঁর কাছ থেকেই, ‘আমাকে এখনো খেলতে দেখে অনেকে বেশ অবাক ও আনন্দিতও হন। তবে অলিম্পিয়াডে খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।’
দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সেরা ফল ২০১২ সালে পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়ে ৩২তম হওয়া। গত কয়েকটি অলিম্পিয়াডে ৬০ থেকে ৭০, কখনো ৮০-এর আশপাশে ছিল। স্থায়ীভাবে ৪০ বা ৫০-এর ভেতরে থাকার মতো দল বাংলাদেশ কখনোই ছিল না, তবে আগের অবস্থা বর্তমানের চেয়ে কিছুটা ভালো ছিল।
মহিলা দলের খেলায় নিয়াজ অনেকটাই ক্ষুব্ধ, ‘নোশিন আঞ্জুম ছাড়া বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও স্কিল খুবই দুর্বল মনে হয়েছে। তাদের মধ্যে জেতার মরিয়া মনোভাবের অভাব। তারা সব সময় ভয়ে ভয়ে খেলে, যার ফলে জেতা বা ড্র করার মতো ম্যাচও হেরে আসে।’














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২