
উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নাল্লা দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাজী মো. মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। সমাবেশে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুল মান্নান ও মো. তাজুল ইসলাম মাস্টারসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, হাজী মো. মোসলেম উদ্দিনের পরিবারের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। কেউ যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাজী মো. মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। হামলাকারীরা তিনটি ঘরের মালামাল নিয়ে গেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাজী মো. মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মঈন উদ্দিন (৫০), আনোয়ার হোসেন প্রকাশ আনু (৪০), বিল্লাল হোসেন (৪৫), জসিম উদ্দিন (৩৫), আসমা আক্তার (৩০), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মুকবল হোসেন (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী সখিনা বেগম (৬০)–এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে হাজী মোসলেম উদ্দিন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেও উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। ওসি বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলা করেছে। দুই পক্ষের দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
