শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পড়াশোনা ও মাতৃত্বের টানাপোড়েন
ডে-কেয়ারের অভাবেভোগান্তিতে কুবির নারীরা
সাঈদ হাসান, কুবি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ এএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২৬ ১:৫৫ এএম |


ডে-কেয়ারের  অভাবেভোগান্তিতে  কুবির নারীরা প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিশু সন্তানদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার। ফলে সন্তানদের দেখাশোনার পাশাপাশি একাডেমিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে বিশেষ করে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। শিশু যত্নকেন্দ্র না থাকায় ক্লাস-পরীক্ষা ও নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৬ সালে কুমিল্লার ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ও একাডেমিক কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও শিশুদের নিরাপদ যত্নের জন্য এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে সন্তানদের কখনো বাসায় রেখে, আবার কখনো সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মায়েদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময়ের ক্লাস বা পরীক্ষার সময় শিশুদের দেখাশোনার বিষয়টি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবারে সহায়তার সুযোগ না থাকলে বাধ্য হয়ে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই ক্যাম্পাসে আসতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিশুর খাদ্য গ্রহণ ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অন্যদিকে মায়েদেরও ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
লোক-প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুন্নেছা নুসরাত বলেন, "দীর্ঘ সময়ের ক্লাস হলে শিশুকে বাসায় রেখে আসা সম্ভব হয় না। আবার ক্যাম্পাস দূরে হওয়ায় পরিবারের সদস্যদেরও সবসময় সঙ্গে রাখা যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানকে ক্লাসে নিয়ে আসতে হয়। এতে শিশু ও মা দুজনেরই মানসিক চাপ বাড়ে। পরিচিত কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্তান সামলানোর কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে পারেন না, ফলে তাদের উপস্থিতির ঘাটতি তৈরি হয়। ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের মতো মায়েদের ভোগান্তি অনেকটাই কমত।"
একই ভোগান্তির কথা জানান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান আল আভি। তিনি বলেন, "সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ক্লাসের মাঝে কোনো বিরতি থাকলে সিঁড়িতে বসেই সন্তানকে নিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে। ক্যাম্পাসে কোনো ডে-কেয়ার বা ব্রেস্টফিডিং কর্নার না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয়। ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হওয়ায় গর্ভাবস্থায় কিংবা সন্তান জন্মের পরও অসুস্থ শরীরে ক্লাসে আসতে হয়েছে।"
বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কল্যাণে ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এটি একজন কর্মজীবী বা শিক্ষার্থী মায়ের মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের সমন্বয় ঘটায়। একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ারকে সুযোগ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।"
তবে ডে-কেয়ার চালুর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বলেন, "নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিবিএ ফ্যাকাল্টির পেছনে একটি 'ফিমেল কর্নার' তৈরি করা হবে। সেখানে বিশ্রাম, নামাজ, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থা থাকবে। তবে আপাতত ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই।"
প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শুধু ব্রেস্টফিডিং কর্নার বা ফিমেল কর্নার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। নারী-বান্ধব শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাস্থ্যকর ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা এখন সময়ের দাবি।















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২