চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র চিকিৎসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে অনুমোদিত ২১৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০৫ জন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রথম শ্রেণির ৪০টি চিকিৎসক পদের ১৭টিসহ মোট ১০৮টি পদই বর্তমানে খালি। এ ছাড়া ১০ জন নার্স, ৪৭ জন তৃতীয় শ্রেণির এবং ৩৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে।
তীব্র জনবল সংকটের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে সরঞ্জামের বিকলতা। সার্জন ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে গত দু মাস ধরে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এক বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। গত এক মাস ধরে সিবিসি ও অটোক্লেভ মেশিনও অকেজো। দীর্ঘদিনের অবহেলায় নষ্ট হয়ে আছে আধুনিক জেনারেটরটি, ফলে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকার ও ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়। সেই সঙ্গে সুপেয় পানির সংকটও দীর্ঘদিনের।
চিকিৎসাসেবার বাইরেও নিরাপত্তার ঘাটতি রোগীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। জরুরি ও বহির্বিভাগে সেবা নিতে এসে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। চুরি, ছিনতাইয়ের ঝুঁকি, প্রবেশমুখে দালালদের দৌরাত্ম্য, অনুমোদনহীন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দখলদারিত্ব এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। সম্প্রতি এক চিকিৎসকের অবহেলার ঘটনাও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মরত কর্মীদের অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে দায়িত্ব পালন করেন না।
তবে সদ্য যোগদান করা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল জানান, হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, "নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গাফিলতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেবার মান দ্রুত উন্নত হবে।"
শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দারা জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং সকল সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আকস্মিক ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
