নিজস্ব প্রতিবেদক।। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘিরে কুমিল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) লংমার্চের অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় হোটেল নূরজাহান-সংলগ্ন মাঠে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে ৩০টি সিসি ক্যামেরা। বক্তব্য ও কর্মসূচি প্রচারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০টি মাইক। এছাড়া শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
শনিবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। লংমার্চকে কেন্দ্র করে পদুয়ার বাজার এলাকায় মঞ্চ নির্মাণ, মাইক স্থাপন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “লংমার্চের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অযথা কোনো ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “দাবিগুলো জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতেই ১১ দলের এই কর্মসূচি।”
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইসতিয়াক আহম্মেদ বলেন, “লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনে আয়োজকদের সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা জামায়াত নেতা নাছির আহম্মেদ মোল্লা বলেন, কুমিল্লা অংশে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক সভাস্থল ছাড়াও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান করবেন। লংমার্চে আগতদের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা, পথসভাস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করবেন। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
লংমার্চের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মহানগর জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি মু. কামারুজ্জামান সোহেল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। এসব দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।”
তিনি জানান, লংমার্চে অংশ নিতে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা আসা শুরু করেছেন।
শ্রমিক নেতা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “দাবিগুলো শুধু কোনো দলের নয়; এগুলো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।”
খাইরুল ইসলাম বলেন, “কুমিল্লার পথসভায় আমীরে জামায়াতের বক্তব্য শুনতে আমরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে চৌদ্দগ্রামেও একটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লায় গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণমিছিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটসহ বিভিন্ন দাবিতে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন।
বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোটেল নূরজাহানের সামনে নির্মিত পথসভা মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, দক্ষিণ জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, উত্তর জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আলমগীর সরকার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মু. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা সোলায়মান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি জিএম সামদানি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসাইন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সবুজসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
