
কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের আমান ম্যানশনে সোহা টেলিকম নামে এক মোবাইল দোকানে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দোকান মালিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দোকানে লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে এই হামলার ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহর জুড়ে নিরাপত্তাহীনতার সমালোচনা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
হামলার ঘটনায় আহত জনির বাবা আবুল হাসান আছির বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী আবুল হাসান আছির জানান, পার্শ্ববর্তী হ্যালো ফ্রেন্ডস দোকানের মালিক দক্ষিণ চর্থার বড়পুকুর পাড় এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মোঃ রাকিব মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোকানে বেশি কাস্টমার আসা-যাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে ছুরি চাপাতি নিয়ে জনির উপর আক্রমণ করে এবং আহত করে দোকান থেকে টাকা ও মোবাইল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুর আনোয়ার জানান, সোহা টেলিকমে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান আছে।
মামলার বাদী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কান্দিরপাড় আমান ম্যানশনে জনির দোকান সোহা টেলিকমে কেন বেশি কাস্টমার থাকে, রাকিবের দোকানে কেন কাস্টমার নেই - এ নিয়ে হ্যালো ফ্রেন্ডস দোকানের মালিক রাকিবের সাথে দন্ধ তৈরি হয়েছিল। পূর্ব শত্রুতার বশে ঐদিন রাতে রাকিব আরো ১৫-২০ জন সঙ্গী নিয়ে দোকানের ভেতরেই জনির উপর হামলা করে। ছুরি চাপাতির রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। হামলার সময় দোকানের জয়ারে থাকা ৪০ হাজার ৫৩০ টাকা, মেরামতের জন্য রাখা ২০টি মোবাইল ফোন এবং যোনির ব্যবহৃত স্মার্ট মোবাইল ফোনটি লুট করে নিয়ে যায়। একই সাথে দোকানের আলমারি ও র্যাক ভাঙচুর করে। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জনিকে রক্ষা করে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটি বন্ধ রয়েছে।
