সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
তনু হত্যায়
অভিযুক্ত দুইজনকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৯ এএম আপডেট: ০৩.০৯.২০২৬ ২:০৬ এএম |


অভিযুক্ত দুইজনকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পলাতক অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাসদস্যকে ধরতে রেড নোটিস জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা- ইন্টারপোল। তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার পৃথক রেড নোটিস জারি করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ওই দুই অভিযুক্ত হলেন- সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত, তাদের অবস্থান জানতে এবং গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নেয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর মঙ্গলবার ইন্টারপোল দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিস জারি করে।
এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পজেটিভ’।
এর আগে তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তথ্য দেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দুজনই সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একজন দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রেড নোটিস জারির ফলে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত ও আটকের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তনু হত্যার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে শাহীন আলম ছিলেন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক।
জাহিদুজ্জামানের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। শাহীন আলমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে।
এর আগে গত ৮ জুন তনু হত্যা মামলায় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছিলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণে ওই দুইজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল তনু হত্যা মামলায় সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তদন্তে তনুর পোশাক থেকে কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পিবিআই। এর মধ্যে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষাও করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।
পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২