পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর দেশে সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট। নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর নাম বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে ওয়েবসাইটের সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালাতে পারে হ্যাকাররা।
এতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি ও ওয়েবসাইট অচল করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিজিডি ই-গভ সার্টের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত ত্রুটি দুটির শনাক্তকরণ নম্বর সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটি দুটির ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২, যা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত।
সার্টের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি অনুরোধের মাধ্যমে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানো সম্ভব হতে পারে। এতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, তথ্যভান্ডার ও অনলাইন সেবার গোপন সংকেত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
পিএইচপি-এফপিএম, অ্যাপাচির মডথপিএইচপি, পিএইচপি-সিজিআই, ফ্র্যাঙ্কেনপিএইচপি ও লাইটস্পিডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সার্ভারগুলো এ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক, ই-কমার্স ওয়েবসাইটসহ ওয়ার্ডপ্রেস ও লারাভেল দিয়ে তৈরি ওয়েবসাইটেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পিএইচপির নিরাপদ সংস্করণে দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে সার্ট। নিরাপদ সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ ও ৮.২.৩৫। শুধু ওয়েবসাইটের সফটওয়্যার নয়, সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির মূল সংস্করণও হালনাগাদ করতে হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ভিপিএনের মাধ্যমে নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার, অনুমোদিত আইপি ঠিকানা ছাড়া অন্য ঠিকানা থেকে প্রবেশ সীমিত করা এবং সার্ভারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপ সাময়িক সুরক্ষা দিতে পারে। নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে সংশ্লিষ্ট সার্ভারকে নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদ করাই স্থায়ী সমাধান।
