আজকের বাঙালি সমাজে
বিদ্বজ্জনসমাজে জুলফিকার নিউটন এক বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব। বিশ্ববিদ্যার বহু
ক্ষেত্রে তাঁর অনায়াস বিচরণ ও প্রখর পাণ্ডিত্য পাঠকের মনে সম্ভ্রম জাগায়।
শিল্পসাহিত্যের তিনি বহুমান্য বোদ্ধা।
‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধটি
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ১৯৪১ সালে, তাঁর আশি বছরের জন্মদিনে। তখন দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের শুরু। সেই প্রবন্ধে-তিনি মানবপীড়নকারী সাম্ব্রাজ্যবাদের
বিস্তার দেখেছিলেন। তারপরে সত্তুর বছর পার হল বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে কবেই,
কিন্তু শেষ হয়নি ঠাণ্ডা লড়াইয়ের উদ্বেগ আর গরম লড়াইয়ের আতঙ্ক। উদাহরণ -অতি
সাম্প্রতিক গালফ্-ওয়ার। ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অপব্যবহার আর
অব্যবহার, রাজনৈতিক শক্তির অতিকেন্দ্রিকতা, সম্পদ আর দারিদ্রের অরুচিকর
বৈপরীত্য, প্রাকৃতিক সম্পদ আর মানব সম্বন্ধের দ্রুত অবক্ষয়, নেশাসক্তি ও
উম্মার্গগামিতা-এসব মিলে গত সত্তুর বছর ধরে মানবসমাজকে এমন একটা অবস্থায়
এনে ফেলেছে, যেখানে শুধু সভ্যতার নয়, অস্তিত্বেরই সংকট। সমস্ত সামাজিক রোগ ও
সামাজিক অন্যায়ের প্রতিকারের পন্থা বলে নিজেকে দাবি করে বিংশ শতাব্দীর
গোড়ার দিকে অভ্যুদয় হয়েছিল মাকর্সবাদের। ভূমণ্ডলের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের
বৃহৎসংখ্যক মানুষের মনে জাগিয়েছিল মুক্তির স্বপ্ন। গড়ে উঠেছিল
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আজ দেখা যাচ্ছে যে সে স্বপ্নও ধূলিসাৎ হতে চলেছে।
হিংসাশ্রয়ী শ্রেণীসংগ্রামের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি
আর্থিক ব্যবস্থায় সামান্য সুরাহা করলেও মুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারেনি।
মানুষকে, বরং আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে বাকরোধকারী নির্যাতনের শৃঙ্খলে। তা থেকে
মুক্ত হবার জন্য মরীয়া হয়ে উঠেছে সেসব দেশের মানুষ। এই যেমন একদিকে, তেমনি
অতিসাম্প্রতিককালের আর এক উদ্বেগজনক ঘটনা হল এই যে, নানা দেশে মানুষ
যুক্তিবর্জিত মধ্যযুগীয় ধর্মোম্মাদনায় ফিরে যেতে চাইছে। রাজনৈতিক বলে
বলীয়ান সাম্প্রদায়িক ধর্মের দাম্ভিক আত্মঘোষণা আজ পৃথিবীর দেশে দেশে
মুক্তবুদ্ধি কল্যাণকামী মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এইরকম জাগতিক ও
সামাজিক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে যখন বিভ্রান্ত কিংবা উদ্ভ্রান্ত লাগে,
যখন মনে হয় ‘ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা’, তখন কিছু অনুত্তেজিত স্থিরবুদ্ধি
মানুষের সুচিন্তিত বাক্য কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে। যাঁরা জাগতিক
ঘটনাপারস্পর্যের নৈর্ব্যক্তিক পরিচ্ছন্ন যুক্তিধর্মী বিশ্লেষণ করতে
শিখেছেন, যাঁরা কল্যাণবুদ্ধিকে বাণিজ্যবুদ্ধির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন এবং
যাঁদের বোধশক্তি সূক্ষ্ম আর জাগ্রত, জুলফিকার নিউটন নিঃসন্দেহে সেই
দু-চারজন লেখকের মধ্যে প্রধান একজন। তাঁর চিন্তা আমাদের ভাবনাচিন্তার জট
ছাড়াতে, কর্মপন্থা নির্বাচন করতে সাহায্য করে।
মানবচিন্তা ও মানবমুক্তি
গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে লেখা শতাধিক প্রবন্ধ। এই
প্রবন্ধ/নিবন্ধ গ্রন্থ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। গ্রন্থে যে সকল প্রবন্ধ রয়েছেঃ
জীবনবোধ ও জীবনদর্শন, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি, মরমী লালন ফকির, মনীষী কবীর
চৌধুরী, সুচিন্তা ও সুশাসন, বিশ্বচিন্তা ও বিশ্ববীক্ষা, গনতন্ত্র ও
সাম্যবাদ, মধুসুদন ও মহাকাব্য, ভাষা ও সাহিত্য,নীতিবোধ ও মূল্যবোধ,
শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষাচিন্তা, মনুষ্যত্ব ও মুগ্ধতাবোধ, যুক্তিবাদ ও
যুক্তিশীলতা, শেলীচিন্তা ও শেলীপ্রেম ,উপলব্ধি ও উদ্ভাসন, শিল্পীর
স্বাধীনতা, নজরুল ও নক্ষত্রলোক,মূল্যবোধ ও বিচারবুদ্ধি, রুশবিপ্লব
গনমুক্তি, নৈতিকতা ও সততা, মুক্তচিন্তা ও মুক্তসমাজ,সুস্থ সমাজের
সন্ধানে,সমাজ ও সংগঠন,মুক্তমত ও মুক্তপথ, সংস্কৃতি ও সাহিত্য, স্বদেশ ও
স্বকাল, সহিষ্ণু ও সৌহার্দ্য,মানবতন্ত্র ও মানবমুক্তি,শিল্পচিন্তা ও
শিল্পবোধ,বিকল্প সমাজ ও সংস্কৃতি,মধ্যবিত্ত ও মুক্তমত, অহংবোধ ও অর্ন্তলোক,
সুখবাদ ও সুনীতি, উন্নয়নতত্ত্ব ও উন্নয়নচিন্তা, পল্লিচিন্তা ও
পল্লিউন্নয়ন, বিপ্লব ও রেনেসাঁস, দ্বন্দচিন্তা ও স্বার্থবুদ্ধি, ধর্মতত্ত্ব
ও ধর্মচিন্তা, প্রগতি ও প্রত্যয়, গনতন্ত্র ও গনমুক্তি,সমন্বয়চিন্তা ও
সৌন্দর্যবোধ, মানববাদ ও মোজাফ্ফর, শুভচিন্তা ও শুভবুদ্ধি,মৃত্যুচিন্তা ও
মৃত্যবোধ,জন্মলোক ও মৃত্যুবোধ প্রভৃতি।
জুলফিকার নিউটনের বিদ্যাচর্চার
ক্ষেত্রের মতোই এই মানবচিন্তা ও মানবমুক্তি গ্রন্থের পরিধিও খুবই বিস্তৃত।
নাতিদীর্ঘ গ্রন্থসমালোচনায় সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না। অংশবিশেষ
নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে, তাতেই সমগ্রের স্বাদ আশা করি পাওয়া
যাবে। কিছু সূচনা আর কিছু জিজ্ঞাসা আগ্রহী পাঠকের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়াটাই
এই নিবন্ধের লক্ষ্য।
জুলফিকার নিউটন প্রধানত যুক্তিবাদী। কিন্তু
যুক্তিবিরোধী নয় অথচ যুক্তির ঊর্ধ্বে মানুষের যেসব সূক্ষ্ম অনুভূতি ও
উপলব্ধি, সেগুলো সম্পর্কে তাঁর মন অসাড় তো নয়ই, বরং তাদের অস্তিত্ব ও
অপরিহার্যতা বিষয়ে তিনি নিঃসংশয়। মানব সংস্কৃতিতে ধর্মের স্থান ও প্রভাব
নিয়ে তিনি গভীর চিন্তা-ভাবনা করেছেন ও লিখেছেন। একটা মানব ঐক্যের আদর্শ
দিয়ে জুলফিকার নিউটন মানুষকে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচয়ের মধ্য দিয়ে
বুঝাতে চেয়েছেন যেসব বিদ্যার মধ্য মানুষের চিন্তা ও কর্মের বিচিত্র প্রকাশ,
সেই সবের প্রতিই তাঁর গভীর আগ্রহ। মানুষের কর্ম ও অবসর, মমতা ও নির্মমতা,
স্বার্থ ও স্বার্থত্যাগ নিয়ে যে দ্বন্দ্বাত্মক কাহিনি বিশ্ব ইতিহাসের পাতায়
পাতায় লেখা হয়ে চলছে, তাতেই মগ্ন হয়ে আছেন তিনি; ঘটনা পরম্পরা অনুসরণ করে
মানুষের আত্ম প্রকাশের ধারাটির প্রকৃতি বুঝতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু
শুধুমাত্র জানা এবং বোঝাই তাঁর লক্ষ্য নয়। এই ধারাটির শুভ নিয়ন্ত্রণে
বিবেকী মানুষের সজাগ ও সক্রিয় ভূমিকাটিও চিনে নেওয়া এবং পালন করার উপায়
সম্বন্ধে ভেবেছেন। এটাই তাঁর জীবনের কাজ, লেখার মধ্য দিয়ে এই কাজটাই তিনি
করতে চেয়েছেন।
......যিনি ফুল ভালবাসেন তিনি ফুল ছিঁড়তে কুণ্ঠা বোধ
করেন। যিনি অকাতরে ফুল ছেঁড়েন তাঁর ভিতর প্রেমের চাইতে আত্মসাৎ করবার
আকাক্সক্ষাই বেশি প্রবল। অনাসক্ত প্রেম চলে ভিন্ন পথে। শুদ্ধ শুভেচ্ছা এবং
নিঃশর্ত ক্ষমা তার আশ্রয়। সকালের প্রথম আলোর প্রতি আমাদের প্রেমে কোনও
স্বার্থের প্রবেশ ঘটে না, আলো ফুরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি থাকে অমলিন।
অধ্যাত্মবোধের রয়েছে সেই অমলিন নির্ভয় প্রেমেরই আস্বাদ। এই বোধের স্পর্শ
ব্যক্তিগত প্রেমকেও ব্যর্থতা ও তিক্ততার ঊর্ধ্বে রাখতে সহায়ক হয়।
(মানবচিন্তা ও মানবমুক্তি: পৃষ্ঠা: ১১১)।
তিনি লিখেছেনঃ নিঃসন্দেহে
ভালোমন্দ সব সম্ভাবনাই শিশুর ভিতর আছে। শিশুরা সরলভাবে হিংসুটে হয়, নিমর্ম
হয়। কিন্তু মানুষের হিংসা অথবা নিমর্মতার এমনিতেই তো প্রমাণের অভাব নেই,
সেজন্য শিশুদের সাক্ষ্য জরুরী নয়। তাদের কাছ থেকে অন্য কিছু বিশেষভাবে
শিক্ষণীয়। মানুষের কিছু মূল্যবান সম্ভাবনা বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যে সব
ঢাকা পড়ে যায় শিশুদের ভিতর সেইসব আমরা অনায়াসে দেখি। তাই তো শিশুরা আমাদের
জ্ঞানী করে তোলে।
বয়স বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে আমরা যতই সংসারে লিপ্ত হয়ে পড়ি
সংসারে নানা স্বার্থে ও প্রয়োজনে যতই জড়িয়ে যাই ততই জগৎটাকে আমরা সেই সব
প্রয়োজনের সঙ্গে য্ক্তু করে দেখতে অভ্যস্ত হই। এক রকমের উদ্দেশ্যনির্ভর
ব্যাবহারিক জানা আমাদের কাছে একমাত্র জানা হয়ে ওঠে। শিশুরা এই সাংসারিক
প্রয়োজনের জালে তেমন আবদ্ধ হয়নি বলেই পৃথিবীটাকে অন্য এক দৃষ্টিতে সহজে
দেখতে পারে, অন্র এক সরল বিস্ময় ও আনন্দে মুহূর্তে মুহূর্তে উদ্বেল হয়ে
ওঠে, প্রকৃতির নানা স্পর্শে গন্ধে ধ্বনিতে অন্য একভাবে অনায়াসে সাড়া দেয়।
অতি তুচ্ছ কারণে শিশু যখন খুশী হয়ে ওঠে, দু‘হাত তুলে নাচে, তখন বয়স্কদের
চোখে সেটা অর্থহীন মজার ব্যাপার মনে হয়, কারণ সংসারের কোনো পরিচিত
প্রয়োজনের সঙ্গে তাকে মেলানো যায় না। তবু এই অহেতুক আনন্দে আছে মানুষের
জন্মগত অধিকার, যে-অধিকার ক্রমশ হারাতে হারাতে সে বয়স্ক হয়ে ওঠে। শিল্পী ও
সন্তদের বৈশিষ্ট্য এইখানে যে, শিশুর দৃষ্টি তাঁরা বয়স্ক জীবনেও রক্ষা করতে
পারেন। সংসারের দাহক অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে সেই দৃষ্টিতে যোগ হয় সারল্যের
সঙ্গে অন্য এক সহ্যশক্তি ও গভীরতা।
বিশ্বকে আমরা প্রেমের দৃষ্টিতে দেখব
কেন, এ প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে এর পর আমাদের প্রবেশ করতে হয় নিজেরই
অন্তরে। সেখানে খুঁজে পাই সেই শিশুটিকে যে এই বিশ্বকে একদিন দুহাত মেলে
ভালোবাসতে চেয়েছিল। সংসারের তাপে দগ্ধ, ছলনার বিভ্রান্ত হয়ে দিনে দিনে সে
বদলে গেছে। তবু নিজেরই অন্তর থেকে আমরা জানি মানুষের মনের গভীরে আজও আছে
অন্য এক আকাঙক্ষা, যাকে সে আজ হয় তো শুধু বিদ্রুপের ভাষাতেই স্বীকার করতে
সাহস পায়। সেই আকাঙক্ষাকে নিজের অন্তরে অনুভব করি বলেই জানি সেটা মানুষেরই
অন্তরের কথা। ভিতর থেকে এই কথাটা যতক্ষণ না স্পষ্ট হয়ে ওঠে ততক্ষণ সেটা
যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না কিন্তু একবার যখন অনভূতির ভিতর সে
প্রত্যক্ষ হয় তখন আর তাকে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায় না। বিশ্বকে আমরা
ভালোবাসব বিশ্বের মুক্তির জন্য নয়, নিজেরই মুক্তির জন্য। আমাদের বিদ্বেষে
বিশ্ব কতটা পোড়ে কে জানে, কিন্তু আমরা পুড়ি, ভিতরে ভিতরে খাক হয়ে যাই।
(যুক্তিবাদ ও মুক্তমত: পৃষ্ঠাঃ ১৬০-১৬১)
জুলফিকার নিউটনের লেখা
বিশ্লেষণে তীক্ষè, বেদনায় কোমল লেখার মধ্যে অতিবিস্তার নেই, আধিক্য নেই,
ততটাই লেখেন যতটা না লিখলে হয় না। নিবিড় অধ্যয়নের আভাস একটা মৃদু সৌরভের
মতো অন্তরালে থেকে তাঁর প্রকাশকে সমৃদ্ধ করে। যুক্তিবাদী হিসেবে একটা
প্রাথমিক অবিশ্বাস-প্রবণতাই তাঁর মনের ধর্ম, কিন্তু এই ব্যাখ্যা গভীর
নৈরাশ্যের পরিস্থিতিতেও মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং নৌরাশ্য-উত্তীর্ণ
আশাবাদের মানসিকতাই তিনি জাগিয়ে রাখেন শেষ পর্যন্ত, যার ফলে তিক্ততা প্রায়
কখনোই দেখা যায় না তাঁর লেখায়।
২
জুলফিকার নিউটনের প্রবন্ধ একই সঙ্গে
সামাজিক ও সাহ্যিত্যিক, সমসামায়িক ও যুগোত্তীর্ণ, সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ,
সাহসী ও মরমী। স্বজ্ঞা ও যুক্তির দীপ্ত সহাবস্থান সেখানে। তাঁর অধিকাংশ
প্রবন্ধে লেখকের আদর্শ হলো - সবচেয়ে কম কথায় সবচেয়ে বেশি ভাব সবচেয়ে সহজ ও
সরস ভাবে প্রকাশ। রাট্রান্ড রাসেলের গদ্যের আদর্শও তাই। শুধু সহজ সামান্য
কথায় জটিল প্রশ্ন গুলির আলোচনাই যথেষ্ট নয়, প্রবন্ধে যুক্তি ও তর্কের
সঙ্গে, বুদ্ধির পাশাপাশি রসের উপস্থিতিও জরুরি। একাধিক লেখনিতে লেখক
প্রবন্ধে সরসতার প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগের কথা বলেছেন। সরসতা সত্বেও তাঁর
প্রবন্ধ রম্যরচয়িতার মেজাজে লেখা নয়, তথ্যনিষ্ঠ রচনা, বিদগ্ধ মানসের
দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে লেখা, মোহমুগ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নয়। এই ধরনের সৎ ও
সাহসী, সরস ও স্বচ্ছন্দ রচনার জন্য দরকার দৃঢ় প্রত্যয় ও সুশোভন
সৃষ্টিশীলতার। একদিক থেকে দেখলে প্রবন্ধ সাহিত্যই জুলফিকার নিউটনের
ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ তীক্ষ্ম ও ঋুজু। তাঁর প্রবন্ধ একই সঙ্গে
সামাজিক ও সাহিত্যিক, সমসাময়িক ও যুগোত্তীর্ণ, সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ,
সাহসী ও মরমী, স্বজ্ঞাযুক্ত ও যুক্তিপূর্ণ।
তিনি লিখেছেন:
.......পৃথিবীর ধনী দেশে, ধনবানদের ভিতর, ভোজনের অতিশয্যই দৈহিক পীড়া এবং
মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসকদের কাছে স্বীকৃত। পানীয়ঘটিত
দুর্ঘটনার কথা সবাই জানেন। এসবের দুষ্ট ক্রিয়া শুধু দেহের ওপরই নয়,
আক্রান্ত হয় মনও। খাদ্যে ও পানীয়ে যখন মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে তখন মনের পক্ষে
সেটা একটা বন্ধনদশা। সুখের সন্ধানে যার শুরু তার পরিণতি এক বিশেষ ধরনের
অসুখে।
অর্থব্যয় করে মানুষ নিজের মনকে শৃঙ্খলিত করে। সেই শৃঙ্খলকেই আবার
কেউ অলংকার জ্ঞান করে। দামি গয়না নিয়ে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে দামি
খাদ্য, ধূম্র ও পানীয় নিয়েও সেইরকম। এইসব হয়ে ওঠে আভিজাত্যের মাপকাঠি।
দরিদ্র মানুষ শাকান্ন থেকে যে তৃপ্তিলাভ করে ধনী সেটা পায় না বিলাসী আহার্য
অথবা পানীয় থেকে, কিন্তু এই সবের অভাবটা ধনীর কাছে বড়োই দুঃখজন মনে হয়।
(প্রগতি ও প্রত্যয়: পৃষ্ঠাঃ ৫৮৮-৫৮৯)
মূল্যবোধ বলতে মানবতাবাদী
জীবনদর্শনে যা কিছু বোঝায়, বিশ্বের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক বাদ দিয়ে তার
কোনো ব্যাখ্যাই সম্পূর্ণ হয় না। যুক্তি-বিবেক-সৌন্দর্যবোধ– এই মূল্যত্রয়ের
কথা বিবেচনা করে দেখা যাক। বুদ্ধি জিনিসটি আত্মশক্তিরই অংশবিশেষ, একান্ত
নিজস্ব, ব্যক্তির প্রকৃতিপ্রদত্ত সাহায্যে বোঝার চেষ্টা করে। বিজ্ঞানী
আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করেন যে, বিশ্বের নিয়মের সঙ্গে যুক্তির নিয়মের মিল আছে। এ
যুগের এক মহান মানবতাবাদী রবীন্দ্রনাথ, এই কথাটা স্বচ্ছভাবে বুঝেছিলেন।
তাঁরই ভাষায় কথাটা আবারও বলা যাক : ‘বুদ্ধির নিয়মের সঙ্গে এই বিশ্বের
নিয়মের সামঞ্জস্য আছে... এই কথা জেনে তবেই আমরা আত্মশক্তির ওপর ভর দিয়ে
দাঁড়াতে পেরেছি।
যুক্তির নানা স্তর আছে। কোনো এক স্তরে সেটা
স্বার্থবুদ্ধির সহায়ক। শুদ্ধ যুক্তির যোগ বিবেকের সঙ্গে। শুদ্ধ যুক্তিতে
বিধৃত বিবেকের গভীর উপলব্ধি, আমার সুখ যেমন কাম্য সকলের সুখও তেমনই কাম্য।
এই অনুভূতি কিন্তু ব্যক্তিরই অনুভূতি। অর্থাৎ, বিবেক একদিকে ব্যক্তির
নিজস্ব চেতনার অন্তর্গত শুভবুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে এই শুভকামনা
বিশ্বের প্রতি প্রসারিত।
সৌন্দর্যবোধ যুক্তিকে খণ্ডন না করেও তাকে
অতিক্রম করে যায়। এখানেও ব্যক্তি এবং বিশ্বের ভিতর একটা গূঢ় সম্পর্কের কথা
এসেই পড়ে। কবি অত্যন্ত ব্যক্তিগত আবেগকে তাঁর কাব্যে বিশ্বের কাছে নিবেদন
করবেন। জুলফিকার নিউটনের জীবনদর্শনের শিল্প ও সাহিত্য একটা বড় স্থান অধিকার
করে আছে। তাঁর সপক্ষে ও বিপক্ষে একটি কথাই বলা চলে : তিনি কার্যত
আস্তিক্যবোধের আসনটি শূন্য করে সেখানে সৌন্দর্যবোধকে স্থান দিয়েছেন। সেই
সমাজই জুলফিকার নিউটনের কাম্য, যেখানে যুক্তি, বিবেক ও সৌন্দর্যবোধের
বিকাশের পথে সমস্ত বাধা দূর হবে। এটাই তাঁর অভ্যস্ত আদর্শবাদ।
...........মানুষের
মুক্তিই পরম লক্ষ্য। মনুষ্যত্বের যোগ্যতম দর্শন অতিক্রমী মানবতাবাদ।
মানবচেতনার উদ্ভব ঘটেছে মহাবিশ্বের অভ্যন্তর থেকে। সেই বিশ্বের স্পন্দন
আমাদের চেতনাকে আকৃষ্ট করে চলেছে দূরের বাঁশির মতো। কোনও সীমার ভিতরই
মানুষের আত্মপরিচয় চিরকাল আবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত নয়। সেই অতৃপ্তি নিয়ে মানুষ
রচনা করে চলেছে তার ইতিহাস। তার চলার পথ তৈরি হয়েছে একই সঙ্গে বাস্তব
সমস্যার ঠেলায় আর বৈশ্বিক আকর্ষণের টানে। (সহিষ্ণু ও সৌহার্দ্য: পৃষ্ঠা:
৪৫৮)
জুলফিকার নিউটনের নিজস্ব চিন্তা, রুচি, বিবেচনা ও বুদ্ধি নির্ভর
রচনাগুলো অন্তর্লীন গভীরতা যেমন পাঠককে নিয়ত প্রাণিত করে তেমনি বিস্ময়ের
উদ্রেক করে তার বিষয় বৈচিত্র্যে। প্রবন্ধচর্চায় নিজস্ব চিন্তা ও মতপ্রকাশে
জুলফিকার নিউটন কোথাও আপস করেননি। বলিষ্ঠ, সমৃদ্ধ ও সৃজন সম্ভাবনাময় গদ্যে
রচিত এই প্রবন্ধগুলো আবহমান মানুষের বিবর্তনশীল জীবনদর্শনের প্রাতিস্বিক ও
বৈশ্বিক পরিচয়।
৩
বিবেকিতা, জুলফিকার নিউটনের জীবনের, চরিত্রের,
গদ্যরীতির কেন্দ্রে। অনিঃশেষ তাঁর কৌতুহল, অনারত তাঁর জীবনজিজ্ঞাসা,
প্রমিতাক্ষর তাঁর বাচনকলা, নিস্কম্প দীপশিখার মত তাঁর বিবেকিতা। চারপাশের
ঘনয়ামান অন্ধকার আর অনালম্ব, অনাত্মজ্ঞ, ব্যালোল মূঢ়তা গর্জনের মাঝখানে
জুলফিকার নিউটন ঋজু, প্রোজ্জ্বল, সুপ্রতিষ্ঠ উপস্থিতি আলোকস্তম্ভ প্রতিম।
এখন অন্ধকার গাঢ়তর হয়েছে, কিন্তু বাষট্টি বছর পার হবার পরও তাঁর মনীষা,
তাঁর বিবেকিতা, তাঁর বিশ্বনাগরিকতা সমানভাবে দীপ্তোজ্জ্বল। জীবন এবং শিল্প,
সমাজ এবং সংস্কৃতি, স্বদেশ ও বিশ্বজগৎ সব কিছু নিয়েই এখনো তাঁর মনন যেমন
গভীর এবং তন্নিষ্ঠ্য, তাঁর লেখায় সেই মননের প্রকাশ তেমনি স্পষ্ট, নির্মেদ,
সুবিদ্ধ সংবাদী।
মানবচিন্তা ও মানবমুক্তি প্রবন্ধ গ্রন্থে মননের সঙ্গে
উপলব্ধির এক অসাধারণ রাসায়নিক সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে একটি সম্পূর্ণ জীবনবোধ।
মানুষ সম্পর্কে, নারীবাদ ও নারীমুক্তি, শিল্পচিন্তা ও শিল্পবোধ,
প্রেমচিন্তা ও প্রেমবোধ, জীবন ও মৃত্যু সম্পকে, জীবনের মহত্তর মূল্যবোধ
সম্বন্ধে এই রচনাগুলো। এর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে একদিকে সাধনালব্ধ
নৈর্ব্যক্তিক নিরাসক্ত দৃষ্টি, অন্যদিকে মহানুভব ও স্বার্থহীন প্রীতি। সব
মিলিয়ে এক ব্যাপক বিশ্বদৃষ্টি ও নিগূঢ় জীবনবোধ।
তিনি
নিখেছেন:-----মৃত্যু ও জীবনের ভিতর বিরোধ নেই, এটাই “পূর্ণ” চিন্তার কথা।
এখন থেকে হাজার কেন, মাত্র শত বৎসর আগেও যদি মৃত্যুর ধারা হঠাৎ সম্পূর্ণ
বন্ধ হয়ে যেত তবে এই পৃথিবীতে নবজাতকের জন্য পা রাখবার মতো স্থান খুঁজে
পাওয়া আজ কঠিন হত। মৃত্যুই নবজীবনের জন্য স্থান রচনা করে চলেছে। ব্যক্তি
বিশেষের মৃত্যু আছে, তারই আশ্রয়ে ঘটে জীবনের অবরিত নবায়ন। চেতনা প্রবাহিত
হয়ে চলে নব নব প্রজন্মে। অন্ধতা কাটিয়ে শান্তভাবে একথা জানবার পরও মৃত্যুতে
মানুষ শোকগ্রস্ত হবে, কিন্তু বিশ্বের বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে সেই শোকে
একটা শুচিতা রক্ষা পাবে। বিশ্বের পটে জীবনের ছবিকে স্থাপন করে অধ্যাত্নবোধ
মানুষকে উদ্ধার করে ক্ষুদ্র ভয়ের বন্ধন থেকে। অহং মুক্তি খুঁজে পায়
বিশ্বচেতনায়। মুক্তিতে আনন্দ। মুক্তিমুখী জীবনদর্শনই শ্রেয়, বিশ্বের পক্ষে,
ব্যক্তির পক্ষেরও। (চেতনার চারুলিপি: পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
জুলফিকার নিউটন
সারাজীবন ধরে পথের সন্ধান করছেন। কীসের পথ? এক নতুন সমাজ, মুক্ত সমাজে
পৌঁছানোর পথ। লিখছেন, “মুক্ত সমাজ বলতে যথাসম্ভব বেশি মানুষের মনে মুক্তির
জন্য ঔদার্য আছে, উপযোগী পরিবেশ আছে– অন্তরে ও বাইরে।” সেই সমাজ
দারিদ্র্যমুক্ত কিন্তু বিত্তলোলুপ নয়। সেই সমাজ অসাম্যবর্জিত, অহিংসায়
বিশ্বাসী, যুক্তি ও সৃজনশীলতায় আস্থাশীল, সমবায় ও সহযোগিতায় অভ্যস্ত। সে
লক্ষ্যে কবে পৌঁছানো যাবে, আদৌ পৌঁছানো যাবে কি না জানা নেই। তবু লক্ষ্য
স্থির রাখা, সঠিক পথ চিনে নেওয়া এবং সেই পথে চলতে শুরু করা– এটাই বড় কাজ।
এই কাজটাই করে চলেছেন জুলফিকার নিউটন দীর্ঘকাল ধরে তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে।
তাঁর নিজের বিচারবুদ্ধি এবং বিবেককে অনুসরণ করে।
জুলফিকার নিউটনের
প্রবন্ধের মধ্যে একটি ধারাবাহিক ক্রম পরিকল্পনা থাকে। হয়তো প্রাথমিকভাবে
অনেকক্ষেত্রে মনে হয় অনুচ্ছেদগুলো বিচ্ছিন্ন– পরম্পরা সূত্রে যুক্ত নয়।
কিন্তু এর অন্তর্লীন গঠনের নির্মাণসূত্র ক্রমান্বয়ে তাকে প্রথিত করে।
প্রবন্ধের শেষ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত না পৌঁছলে সে পরিকল্পনার রূপ স্পষ্ট হয়
না। অনেক আপাত সংযোগহীন বিষয়ও বারবার বিবরণের আকারে চলে আসে। এই সব বিবরণের
সমবেত নিহিতার্থ আপাত বিচ্ছিন্নতার আড়াল থেকে স্পষ্টতর হয়ে ওঠে ক্রমান্বয়ে
শেষ পর্বে। তাঁর প্রবন্ধে যত গভীরতর বিষয়ই হোক, এক ধরনের সংলাপধর্মিতা
সহজেই গ্রস্ত করে আমাদের। যেকোনো দুরূহ, জটিল বা বাস্তব বিষয়ও শেষ মুহূর্তে
এক দার্শনিকতার মাত্রা পায়। তাই মননের সঙ্গে তার বোঝাপড়া যতটুকু তা
যুক্তিকে অবলম্বন করে যেতে যেতে বোধিকে দীপ্ত করে।
তিনি লিখেছেনঃ
বিশ্বকে আমরা যখন প্রথমবার আলোর মতো লাভ করি, সেটা শিশুর আলোক প্রাপ্তির
মতো। তাতে কোনো কঠিন সাধনার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মৃত্যুশোক অতিক্রম করে
বিশ্ব যদি আবারও ব্যক্তির দৃষ্টিতে আলোয় আলোকময় হয় তবে সেটা সাধনালব্ধ ধন।
প্রথম ভালোবাসায় থাকে চিরকাল পাওয়ার আশা। মৃত্যু অন্য এক শিক্ষা দেয়।
ব্যক্তিত্বের
বিনাশে নয় বরং তার উন্মোচন ও উত্তরণেই মৃত্যুর শিক্ষারও পূর্ণতা। আমরা যখন
ত্যাগ করতে প্রস্তুত, আমাদের গ্রহণটাও তখন ছোটো ছোটো আশঙ্কায় খণ্ডিত নয়
বলেই সম্পূর্ণ। এরপরও আমরা সংসারেই থাকি, হাসি-কান্না সবই থাকে, তবু
কান্নায় থাকে না করাতের ধার, হাসিতে থাকে না মিথ্যা অহংকার। সংসার তার আপন
গতিতে চলে, কিন্তু চিত্তের আকাশ থেকে একটা মেঘ কেটে যায়। অন্তত এই বোধ
থাকে, মেঘের ওপারে নিষ্কম্প সুনীল আকাশ এখনও আছে। আবারও ভালোবাসার আলোতে
পৃথিবী উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
‘অলৌকিক ডাকপিওন, তারপর ‘রোদ্দুরের চৌকো
খামগুলি’ মাঝে মাঝেই আমাদের দুয়ারে পৌঁছে দেয়। আমরা খুশি হয়ে সেই চিঠি
তুলে নিই, ভালোবেসে পড়ি। তবু জানি, এই মুহূর্তের আলো নিভে যেতে পারে পর
মুহূর্তেই। আবারও আলো ফিরে আসবে এই বিশ্বে, আমার দৃষ্টি-র আলো হয় তো
ততক্ষণে ফুরিয়ে গেছে। মৃত্যুর শাসন থেকে কিছুই মুক্ত নয়, নির্মোহ এই
জানাতেই মুক্তি। মৃত্যুকে চিরন্তন সত্য জেনে আমরা জীবনের পথে চলি, অসংখ্য
মৃত্যুকে অতিক্রম করে যে জীবন এগিয়ে চলেছে। (পৃষ্ঠাঃ ৬৩৯-৬৪০)
জুলফিকার
নিউটনের রচনায় একই সঙ্গে মিশে থাকে যুক্তিবাদী বিশ্লেষণ, দার্শনিক মনন ও
হার্দিক সংবেদন। তাঁর দেখার ধরন স্বতস্ত্র, লেখার ভঙ্গি স্বচ্ছ। গভীর
কথাকেও নিতান্ত সহজ করে বলতে পারেন তিনি। যে প্রসঙ্গেই কিছু বলুন না তিনি
তাঁর বক্তব্য শুনতেই হয়। তাঁর চিন্তা ঋজু ও যুক্তিপূর্ণ, মতামত দ্বিধাহীন ও
অভিজ্ঞতাপুষ্ট। প্রসঙ্গ সাময়িক হলেও জীবনবোধ থেকে উৎসারিত বলে প্রতিটি
মতামত অমূল্য। চিন্তার স্পষ্টতায়, ভাষার স্বচ্ছতায়, বিশ্লেষণের ব্যাপকতায়,
উপলব্ধির গূঢ়তায়, প্রত্যয়ের দৃঢ়তায় জুলফিকার নিউটনের প্রবন্ধগুলি আক্ষরিক
অর্থেই প্রবন্ধ। তাঁর একটি লেখাকেও অস্বীকার করা যায় না। এক কথায় নস্যাৎ
করে দেওয়া যায় না তাঁর চিন্তার যুক্তি পরম্পরাকে। তিনি সেই বিরল
প্রাবন্ধিকদের একজন যার রচনা পরবর্তীকালের হারায় না প্রাসঙ্গিকতা, যার
চিন্তা আমাদের বহু ভাবনাচিন্তার সমস্যা সংকটের জট ছাড়াতে, কর্মপন্থা
নির্বাচন করতে সহায়ক হয়ে উঠে।
মানবচিন্তা ও মানবমুক্তি: জুলফিকার
নিউটন, প্রচ্ছদ: ধ্রুব এস, মূল্য: ১১০০ টাকা, পৃষ্ঠা: ৬৪০, প্রকাশ ২০২৬ইং,
কথা সম্ভার: ৩৮/২ক বাংলাবাজার, ঢাকা।
