কুমিল্লার
মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৬ মাসের এক শিশুকে
বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। অবুজ সেই সন্তানকে
হারিয়ে পাগলপ্রায় মা তাছলিমা আক্তার এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সন্তানকে
ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার মুরাদনগর উপজেলার
রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ও বাঙ্গরা বাজার থানার
রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সরেরপাড় এলাকায়।
ভুক্তভোগী মা তাছলিমা
আক্তার সরেরপাড় গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে এবং মোস্তফাপুর গ্রামের
আল-আমিনের স্ত্রী। ৬ মেয়ে ও ২ ছেলের সংসারে বিক্রি হওয়া শিশুটিই তাদের সবার
ছোট সন্তান।
কান্নায় ভেঙে পড়ে মা তাছলিমা জানান, গত ১৮ জুলাই বাবার
বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফেরার পথে মজিদ কলেজ মাঠে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর
নেওয়া হয়। ওই সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিষয়টি বুঝতে
পারেননি। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে দেখেন তার কোলের সন্তান পাশে নেই।
ভুক্তভোগী
তাসলিমা আক্তার বলেন, "আমার খালা চক্রান্ত করে আমার অবুঝ সন্তানকে অন্যের
কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমার কোলের সন্তানকে
সুস্থভাবে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।"
এ চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির
খালা ছেনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি
না, তাছলিমার মামা বাবুল মিয়া সব জানে।"
এদিকে মামা বাবুল মিয়ার দাবি,
তিনি কেবল একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন মাত্র, তবে শিশুটিকে কারা নিয়ে
গেছে তাদের তিনি চেনেন না। উলটো তার দাবি, শিশুটির বাবা আল-আমিনই সবকিছু
জানেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে শিশুটির বাবা আল-আমিনের সঙ্গে মোবাইল
ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জানা গেছে, তিনি
ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) চাকরি করেন।
এ বিষয়ে
বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, শিশুটি
বর্তমানে কোথায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশ বাচ্চাটি
উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। এছাড়া এ ঘটনায় লিখিত
অভিযোগ পেলে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
