
কুমিল্লা
এয়ারপোর্টে প্রবেশ টিকেট মূল্যের নামে জুয়ার লটারী কার্যক্রমের প্রতিবাদে
জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে ৬ টি ইসলামী দল। এছাড়া কুমিল্লা
এয়ারপোর্ট বিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবিতেও ১৬
আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান
করা হবে বলে জানা গেছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ,
মহানগর কুমিল্লা; কুমিল্লা জেলা কওমি মাদরাসা সংগঠন; আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামাত ইমাম পরিষদ; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
বাংলাদেশ; খেলাফত মজলিস।
জানা গেছে, কুমিল্লার মানুষের তীব্র ক্ষোভ
উপেক্ষা করে এবারও কুমিল্লায় জুয়া মেলা খ্যাত বাণিজ্য মেলা আয়োজনের
প্রস্তুতি চলছে। এবার এ মেলা আয়োজন করা হচ্ছে কুমিল্লা বিমানবন্দরের
রানওয়েতে। যে বিমানবন্দর চালুর জন্য কুমিল্লার গণমানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি
জানিয়ে আসছিল। সেই বিমানবন্দরের রানওয়ে ধ্বংস করে চলছে বিভিন্ন রাইড
স্থাপনের কাজ। এতে বিমানের সংকেত প্রদানের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত আপত্তিও জানিয়েছে কুমিল্লা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই
সঙ্গে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতিও তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি জেলা
প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে। জুয়া মেলা আয়োজনের খবরে নেটিজেনরাও তীব্র
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কিন্তু জনমানুষের ক্ষোভ উপেক্ষা করে 'বিশেষ
শক্তির' সমর্থনে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, জনৈক আমির
হোসেন গতবারের মতো এবারও একই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুই মাসের জন্য কথিত
বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি নেন। সে মেলার স্থানীয় তদারকি করেন বিল্লাল
হোসেন। মেলায় প্রবেশ মূল্যের নামে কুপন ছাপিয়ে লটারির মাধ্যমে দামি উপহার
দেওয়ার নামে চালানো হয় লটারি বাণিজ্য। যা ইতিমধ্যে কুমিল্লার মানুষের কাছে
জুয়া নামে পরিচিতি পায়। সেই সঙ্গে মেলায় নিম্নমানের পণ্য বেশি দামে বিক্রি
করা হয়। এতে প্রতারিত হন ক্রেতারা। কুমিল্লার বিভিন্ন অঙ্গনের
প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলে এ মেলা। আর মেলা অনুমোদনকারীরা বাড়তি
প্রাপ্তির আশায় মানুষের ঘৃণা উপেক্ষা করে দেন মেলার অনুমতি।
উল্লেখ্য,
বিতর্কিত এ জুয়া নামক বাণিজ্য মেলার বিরুদ্ধে গত বছর কুমিল্লার আলেম সমাজ,
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে মেলাটি নির্ধারিত
সময়ের কিছু দিন আগে বন্ধ করতে বাধ্য হয়। না হয় জনরোষের শিকার হতে হতো মেলা
কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সে অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এবারও মেলার অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে।
এদিকে, মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন রাইড নির্মাণ করায় বন্দরের ভিওআর
সিগন্যাল প্রদান ব্যাহত হতে পারে। এতে কুমিল্লার আকাশ দিয়ে চলাচলকারী
বিমানগুলো সংকেত পাবে না। সংকেত 'এরর' দেখাতে পারে। ফলে অভিজ্ঞ পাইলটরা চলে
যেতে পারলেও নতুন পাইলটদের বিড়ম্বনায় পড়তে পারে। সেই সঙ্গে রানওয়ে
ক্ষতিগ্রস্ত করে বসানো হয়েছে টাওয়ার ও স্থাপনা। অথচ শুধু রানওয়ে কার্পেটিং
করলে এই রানওয়েতে প্রশিক্ষণ বিমান ওঠানামা করতে পারতো। বিমানবন্দরের এই
বিপত্তি সম্পর্কে লিখিতভাবে মেলা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি। সেই সঙ্গে আমলে নেয়নি দোকান মালিক
সমিতির নেতৃবৃন্দের কুমিল্লার লিখিত আপত্তিও। পরে তারা কুমিল্লা জেলা
প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কুমিল্লা দোকান মালিক
সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার জানান, আমরা মেলা অনুমোদন দেওয়া
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সব বলেছি। তারা মেলা আয়োজনে অনড়। পরে
স্মারকলিপি দিয়েছি।
