
উদ্বোধনী
জুটিতে ৮৯, ১ উইকেট হারিয়েই রান পেরিয়ে গেল ১০০। সেই দল পরে করতে পারল না
১৮০ রানও। শেখ পারভেজ হোসেনের অফ স্পিনের জটই যে তারা খুলতে পারল না! টানা
দ্বিতীয় ম্যাচে শিকার করলেন তিনি পাঁচ উইকেট। আপাতত সহজ লক্ষ্য তাড়ায়ও
অবশ্য বড় বিপদে ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে আহরার আমিন ও দেবাশিস
সরকারের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত ধরা দিল জয়।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়
একদিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩
দল। সিরিজ জিতে নিল তারা এক ম্যাচ বাকি রেখে।
বসুন্ধরা স্পোর্টস
কমপ্লেক্সে শুক্রবার সফরকারী দলটির রান এক পর্যায়ে ছিল ১ উইকেটে ১০৩। ২০
ওভারও হয়নি তখনও। সেখান থেকে তারা গুটিয়ে যায় ১৭৬ রানেই। খেলতে পারেনি ৪০
ওভারও।
মালেয়েশিয়ার ওপেনার আসলাম খান বিন মালিক উপহার দেন দারুণ এক
সেঞ্চুরি। দলের আর কেউ পারেননি ২৫ ছাড়াতে। আট ব্যাটার আউট হন দুঅঙ্ক ছোঁয়ার
আগে।
সেই রানের পিছু ছুটে বাংলাদেশ ৫৮ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ইনিংসের
অর্ধেক। সেখান থেকে আহরার ও দেবাশিসের ফিফটি দলকে নিয়ে যায় জয়ের পথে।
দুজনের ফিফটি ছিল দুই রকমের। ৭৬ বলে ৫৭ করে অপরাজিত থাকেন আহরার, ৪১ বলে ৫৮ করে আউট হন দেবাশিস।
২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অবশ্য টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচ পারভেজ।
লক্ষ্য
তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিককে হারায়
বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সৈয়দ আজিজের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে
ফেরেন তিনি। পরের ওভারে আরিফ উল্লাহর বলে কাভারে ভিশভারুবেন কুমার চমৎকার
ক্যাচে আউট হন কালাম সিদ্দিকি।
দুই রানে দুই উইকেট হারানো দলকে প্রথম
দফায় উদ্ধারের চেষ্টা করেন ইকবাল হোসেন ও অধিনায়ক রিজান হোসেন। তৃতীয় উইকেট
জুটিতে দুজনে ৩০ বলে যোগ করেন ৩৮ রান।
২৬ বলে ২৬ রান করা ইকবাল ফিরলে
ভাঙে জুটি। একই ওভারে ফেরেন আগের ম্যাচে ৯৪ রান করা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
(০)। দুজনকেই ফেরান প্রাশান্ত মাধুকার।
এরপর অধিনায়ক রিজানও যখন ফিরলেন ১৮ রানে, ১৪ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে দল।
সেখান থেকে দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি আহরার ও দেবাশিস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তাদের অবদান ৯২ রান।
ভিজায়
উন্নির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়া দেবাশিস
ফিরলে ভাঙে এই জুটি। তার ইনিংস সাজানো ছিল পাঁচ চার ও চারটি ছয়ে।
পরে মাহফুজুর রহমান রাব্বি ৫ রানে ফিরলেও আহরার ছিলেন বলে জিততে সমস্যা হয়নি দলের।
সকালে
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চমক দেখায় মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ সফরে আগের তিন
ম্যাচের কোনোটিতেই উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহ পায়নি দলটি। এবার আসলাম ও
সাইফ উল্লাহ মিলে দলকে এনে দেন দারুণ শুরু।
সেখানে মূল অবদান আসলামের। ফিফটিতে পৌঁছে যান তিনি ৪০ বলে।
বাংলাদেশের মাথাব্যথা হয়ে ওঠা জুটি ভেঙেই পারভেজের উইকেট শিকার অভিযানের শুরু। সাইফ ফেরেন ৪৯ বলে ২৫ রানে।
একটু
পর আজিজকেও ফেরান পারভেজ। এরপর এক প্রান্ত আগলে রাখেন আসলাম, আরেক
প্রান্তে চলতে থাকে উইকেট পতনের মিছিল। কেবল আজাব খান ১৪ বলে ১৭ করে কিছুটা
অবদান রাখতে পারেন।
সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে আসলাম আউট জন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ১০ চার ও চার ছক্কায় ঠিক ১০০ রানে ফেরেন তিনি ১০৭ বল খেলে।
মালেয়েশিয়ার
তিন ব্যাটার মিলে করেছেন ১৪২ রান, বাকি আট ব্যাটারের সম্মিলিত রান স্রেফ
১৬! অতিরিক্ত থেকে ১৮ রান না এলে আরও করুণ হতো তাদের স্কোরের চিত্র।
পারভেজের পাঁচ উইকেটের পাশে দুটি উইকেট শিকার করেন লিগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মালয়েশিয়া:
৩৮ ওভারে ১৭৬/১০ (আসলাম ১০০, সাইফ ২৫, আজিজ ৮, ভিজায় ২, আমির ০, জুবাইদি
০, আজাব ১৭, ভিশভারুবেন ০, প্রাশান্ত ২, জুনাইদ ২, আরিফ ২*; রাহিন
৮-০-৫২-২, রিজান ৩-০-১৬-০, মাহফুজুর ৮-০-৩৪-০, পারভেজ ৮-২-২৩-৫, স্বাধীন
৯-২-৩৬-২, আহরার ২-০-৪-০)
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২৩ দল: ৩১.৫ ওভারে ১৭৭/৭
(আদিল ০, ইকবাল ২৬, কালাম ১, রিজান ১৮, আব্দুল্লাহ ০, আহরার ৫৭*, দেবাশিস
৫৮, মাহফুজুর ৪, পারভেজ ১*; আজিজ ৬-০-২৬-১, আরিফ ৪-০-৪১-১, প্রাশান্ত
৭-০-২৬-২, ভিজায় ৯-২-২৩-২, ভিশভারুবেন ২.৫-০-২৮-১, আমির ২-০-২১-০, সাইফ
১-০-১১-০)
ফল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেখ পারভেজ হোসেন।
