
কিংবদন্তি
ইয়োহান ক্রুইফ যে ধরনের ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করতের, মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে
সেই তত্ত্বের সবচেয়ে সুন্দর প্রদর্শনী করতেন জাভি হার্নান্দেজ। ‘টোটাল
ফুটবল’ প্রেমীরা তো জাভিকে ভালোবেসে ডাকতেন ‘ক্রুইফের ছেলে’। সেই ক্রুইফের
দেশ নেদারল্যান্ডসের জাতীয় দলের দায়িত্ব এবার পড়ল জাভির কাঁধেই।
রোনাল্ড
কোম্যানের বিদায়ের পর নেদারল্যান্ডস নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্পেন ও
বার্সেলোনার কিংবদন্তি ফুটবলার জাভি হার্নান্দেজকে। চার বছরের চুক্তিতে
ডাচদের দায়িত্ব নিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ।
দুই বছর পর আবারও
কোচিংয়ে ফিরছেন জাভি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে
কোচিংয়ের বাইরে ছিলেন তিনি। নতুন দায়িত্বে ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও
২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে নেতৃত্ব দেবেন জাভি।
ক্রুইফের
স্টাইল ‘টোটাল ফুটবল’-এর সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে বার্সেলোনা ফুটবলে। ১৯৮৮
সালে কাতালান ক্লাবটির ম্যানেজার হওয়ার মাধ্যমে এই দর্শনের শুরুটা করেছিলেন
ক্রুইফ নিজেই। কিংবদন্তি ডাচম্যান ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বার্সার মূল দলের
দায়িত্বে ছিলেন। তার প্রভাব ও দর্শনে সেই সময় বার্সার একাডেমি লা-মাসিয়াও
ভিন্ন মাত্রা পায়। আর সেই একাডেমি থেকেই ১৯৯৮ সালে বার্সার মূল দলের অভিষেক
হয় জাভির। জাভি তাঁর খেলোয়াড়ি এবং কোচিং জীবনে ছিলেন পুরোপুরি ক্রুইফের
দ্বারা প্রভাবিত।
ডাচদের আবিষ্কার করা ‘টোটাল ফুটবল’-এর টোটকা সারা
পৃথীবীর ফুটবল প্রেমীদের এখনও বিমোহিত করে রেখেছ। পেপ গার্দিওলা ও লুইস দে
লা ফুয়েন্তের সাফল্য এবং তাদের কৌশলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহই এর প্রমাণ
দেয়। কিন্তু ‘টোটাল ফুটবল’-এর আঁতুড়ঘর নেদারলেন্ডসের অবস্থা কিন্তু নাজুক।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর উপমহাদেশীয় ও বৈশ্বিক আসরগুলোতে তারা রীতিমত
ধুঁকছে। তাই বাধ্য হয়ে ডাচদের ফিরতে হলো তাদের শিকড়ে।
ডাচ ফুটবলের
মূলমন্ত্রকে (টোটাল ফুটবল) মাঠে প্রয়োগ করে সেখান থেকে সাফল্য বের করার মতো
কোচ এই মুহূর্তে আবার তাদের দেশে নেই। তাই বাধ্য হয়ে কমলারা বিশ্বাস রাখতে
যাচ্ছেন স্প্যানিশ জাভির কৌশলে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত জাভি
বলেন, ‘ডাচ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।
বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠার কারণে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলসের মতো
ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে পাওয়া গভীর প্রভাবের সঙ্গে ডাচ ফুটবলের একটি বিশেষ
যোগসূত্র আমি অনুভব করি।’
এই নিয়োগের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে
জাভির আক্রমণাত্মক ও বল দখলভিত্তিক ফুটবলের দর্শনকে। ‘নেদারল্যান্ডসের
সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি এবং একটি পরিষ্কার দর্শন রয়েছে, যা আমাকে দারুণভাবে
আকৃষ্ট করে। আমি এমনভাবে জিততে চাই, যাতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো খেলায় ফুটে ওঠে
এবং মানুষও তা উপভোগ করতে পারে।’
খেলোয়াড় হিসেবে জাভির সাফল্যের তালিকা
দীর্ঘ। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ ইউরো জয়ের পাশাপাশি
বার্সেলোনার হয়েও অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। কোচ হিসেবে কাতারের আল সাদের
দায়িত্ব দিয়ে যাত্রা শুরু করেন জাভি। সেখানে সাতটি ট্রফি জয়ের পর ২০২১
সালে বার্সেলোনার দায়িত্ব নেন। ক্লাবটিকে ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা এবং ২০২৩
সালে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতান তিনি।
