একমাত্র
সন্তানকে হারিয়ে শোকে কাতর মা। সন্তান হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন
তিনি। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন আশপাশের মানুষও। এমন
মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে শোকাহত মাকে নিজের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা
দিয়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী
ইসলাম। মায়ের কান্নায় এ সময় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ইউএনওর এমন মানবিক আচরণ
প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
বুধবার ( ১২ আগস্ট ) সন্ধ্যায়
'টহড়ইৎধযসধহঢ়ধৎধ' নামের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে
দেওয়া একটি পোস্টে শোকাহত মাকে জড়িয়ে ধরার ওই আবেগঘন ছবিটি প্রকাশ করা হয়।
ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা অনেকের নজর কাড়ে এবং প্রশংসা
কুড়ায়।
জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইঘর নোয়াপাড়ায় বাড়ির পাশের
পুকুরে ডুবে ১৮ মাস বয়সী শিশু জাকিয়ার মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে
হারিয়ে শিশুটির বাবা টাইলস মিস্ত্রি জুয়েল মিয়া ও তার স্ত্রী শোকে ভেঙে
পড়েছেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত পরিবারে পাশে দাঁড়ান ইউএনও
মুন্নী ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি
গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পরিবারটিকে শুকনো খাবার সহায়তা দেন এবং
প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
নিজের
দেওয়া পোস্টে ইউএনও মুন্নী ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশের
পাশাপাশি পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার
আহ্বান জানান। বাড়ির পাশে পুকুর থাকলে শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে
পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের অনুরোধ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি
ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন, অভিভাবকদের একটু সতর্কতা ও বাড়তি প্রচেষ্টাই
শিশুদের জীবনকে আরও নিরাপদ ও সুন্দর করতে পারে।
এদিকে, একটি শিশুর
মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উপস্থিতি
স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি
বিপদে পড়া মানুষের পাশে সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়ানোর এ দৃশ্যকে প্রশাসনের
মানবিক ভূমিকার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
শোকাহত মাকে জড়িয়ে
ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার ছবিটি যেন সেই মানবিকতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
দায়িত্বের গণ্ডিপেরিয়ে মানুষের দুঃখ-বেদনার অংশীদার হওয়ার এমন উদ্যোগকে
যোগাযোগমাধ্যমেও ইউএনও মুন্নী ইসলামের প্রশংসা করছেন অনেকে।
