কুমিল্লা
শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরের
লড়াইয়ে তাক লাগানো ফলাফল করেছে কুমিল্লার তিন শিক্ষার্থী। ১ হাজার ২৫০
নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২১৭ নম্বর পেয়ে বোর্ডের অন্যতম সেরা ফলাফল করেছে
জেলার দেবিদ্বার উপজেলার মফিজ উদ্দিন আহমেদ গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষার্থী
জাকিয়া সুলতানা, ১ হাজার ২১৫ নম্বর পেয়ে কৃতীত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে
কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের
শিক্ষার্থী আনিসা তাবাসসুম এবং ১ হাজার ২১৪ নম্বর পেয়ে সাফল্যের নজির গড়েছে
কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান জিসান।
এছাড়াও
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কুমিল্লার আলী মাদ্রাসার বিজ্ঞানের
শিক্ষার্থী তাসফিয়া ইসলাম হুমাইরা ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৩৭ এবং কুমিল্লার
জামেয়া আকবরীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারিহা আক্তার ১৪০০ নম্বরের
মধ্যে ১২২৭ নম্বর পেয়ে তাক লাগানো সাফল্য অর্জন করেছে।
তাদের এ
কৃতীত্বপূর্ণ ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষকরা জানান, নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম,
অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাই এমন ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখেছে। ভবিষ্যতেও তারা দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে-এমন
প্রত্যাশা শিক্ষকদের।
এদিকে ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নবাব ফয়জুন্নেছা
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসা তাবাসসুম জানায়, ভবিষ্যতে
চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় সে। ভালো ফলাফলের এই
ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো করার প্রত্যয় রয়েছে তার।
অন্যদিকে
কুমিল্লা জিলা স্কুলের মো. জাহিদ হাসান জিসানের লক্ষ্য বাংলাদেশ প্রকৌশল
বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হওয়া।
তার এমন সাফল্যে পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ
করছে আনন্দের আমেজ।
এর আগে সোমবার সকালে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা
বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন
শিক্ষার্থী।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা
শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে
কৃতকার্য হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩
হাজার ৯৬৬ জন ছেলে এবং ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে।
ফলাফল প্রকাশের পর
কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে
উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নেচে-গেয়ে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এবং পরস্পরকে মিষ্টিমুখ
করিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল উদযাপন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের উল্লাসে শিক্ষক ও
অভিভাবকদেরও যোগ দিতে দেখা যায়।
