টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরও ৪২ হাজার ১০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশল বিষয়ক হালনাগাদ পর্যালোচনায় এ আভাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার
আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স
অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়
অতিরিক্ত অর্থায়নের হিসাব তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার মূল উপস্থাপনায় ছিলেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম)
নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।
তিনি তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের
পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি
উভয় উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।
সেলিম
রায়হান বলেন, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর- এই পাঁচ বছর বাংলাদেশের
অতিরিক্ত ৪২ হাজার ১০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ সরকারি ও
বেসরকারি উৎস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ
করতে হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের
আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ
কর্মশালা আয়োজন করে। পরে ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়।
কর্মশালায়
ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) শীর্ষক প্রতিবেদনের ফল
পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশল নিয়ে
পর্যালোচনা হয়।
ডিএফএ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্লেষণ কাঠামো, যা
জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়নের নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক
প্রবাহের কার্যকর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক
সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, “এসডিজি
বাস্তবায়নের বাকি সময়টা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের ব্যাপক
ঘাটতি, অন্যদিকে হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত।
“তবে
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন
করতে সক্ষম হবে। এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত
উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।”
অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের তাৎপর্য তুলে ধরেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক।
তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।”
এমন
প্রেক্ষাপটে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কথা বলেন তিনি।
অর্থনৈতিক
সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম. জাহাঙ্গীর বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ
থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে একটি সমন্বিত ও
বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএনডিপির
উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরও
কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।
