কুমিল্লার
নব-গঠিত বাঙ্গরা উপজেলায় কৃষি জমি গ্রাস করার মূল কারিগর 'অবৈধ ড্রেজার
সিন্ডিকেটের' বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সাধারণ কৃষকের
হাহাকার আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো এলাকায় পরিচালিত হলো এক রণকৌশলগত
সাঁড়াশি অভিযান। গত বুধবার দুপুরে আকুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে এই স্পেশাল 'অপারেশন ড্রেজার' পরিচালনা
করেন, উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান
খান।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে আকুবপুর
ইউনিয়নের পীরকাশিমপুরসহ বিভিন্ন বিলে ও ডোবায় বসানো অবৈধ বালু উত্তোলনের
আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকেই জব্দ করা হয় ৩টি বিশাল
আকৃতির ড্রেজার মেশিন। সেই সাথে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বিছানো প্রায় ১
হাজার ৫শ’ ফুট ড্রেজিং পাইপ কেটে উপড়ে ফেলে অকেজো করে দেয় আভিযানিক দল।
অভিযান
চলাকালে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের দায়ে পীর কাশিমপুর গ্রামের আবদুল
আউয়ালের ছেলে মুল অভিযুক্ত সোহেল সামাদকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী
ড্রেজার ব্যবসায়ী ইয়াছিন মিয়া ও হান্নান মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০' অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ
ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের এক
মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পীর
কাশিমপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে হান্নান মিয়া (২৮) ও একই গ্রামের
আবদুর রহমানের ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩১)। দণ্ডপ্রাপ্তদের তাৎক্ষণিকভাবে কড়া
পুলিশ প্রহরায় কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযান
শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে
জানান," আবাদি জমি ও পরিবেশ বিনষ্ট করে কোনো চক্রকে লাভবান হতে দেওয়া হবে
না। মাটির নিচে কিংবা পানির ওপর যেখানেই অবৈধ ড্রেজার বা পাইপের অস্তিত্ব
মিলবে, সেখানেই এই হাতুড়ি চলবে। আমাদের এই অভিযান কেবল শুরু, ড্রেজার
সিন্ডিকেট নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।"
এদিকে, বছরের পর বছর ধরে
কৃষি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও বাসিন্দারা
প্রশাসনের এমন দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। অনেকে
জানায়, নিয়মিত এমন অভিযান চললে এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি অকাল
বিনাশের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
