সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
জলাবদ্ধ সদর হাসপাতালে ভূতুড়ে অন্ধকার
১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন; মোবাইলের আলোতে চিকিৎসাসেবা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৮ এএম আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ১:৫০ এএম |



  জলাবদ্ধ সদর হাসপাতালে ভূতুড়ে অন্ধকার নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার একটু পরই বিদ্যুৎ চলে যায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালে। এরপর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘আলোর’ দেখা মেলেনি কুমিল্লা নগরীর অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটিতে। তবে রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ ঘন্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন কুমিল্লা সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচ তলার দুটি ওয়ার্ডে। সোমবার সকালে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পর মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে এরপর থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে এই দুটি ওয়ার্ড। একদিকে জমাটবদ্ধ পানির অস্বস্তি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে মানবেতর জীবন যাপন করছে রোগীরা। 
দুই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা জানাল, জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক লাইন শর্ট সার্কিট হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের লাইন সচ্ছল করা যাচ্ছে না বলে ইলেকট্রিশিয়ান জানিয়েছে। 
মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স মীনাক্ষী রানী জানান, সোমবার সকালে বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সেখানে আর বিদ্যুৎ আসেনি। মশা ও পোকামাকড়ের ভয়ে তিনজন রোগী না বলেই বাড়ি চলে গেছে। 
মেডিসিন ও সার্জারি মহিলা ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত হোসনেয়ারা বেগম জানান, এই ওয়ার্ড থেকে আট জন রোগী আজকে বাড়ি চলে গেছে। একে জলাবদ্ধতা তার উপরে বিদ্যুৎ নেই। অবর্ণনীয় কষ্টের কারণে মানুষ থাকতে চাচ্ছে না। 
সোমবার সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচ তলায় মেডিসিন মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে এক রোগীর হাতে ইনজেকশন দিচ্ছেন নার্স । পাশের একটি বেডে সিজারিয়ান মাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন এক কিশোরী। পাশের ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে মোমবাতি জ্বালিয়ে স্বামীকে ভাত খাওয়াচ্ছেন এক নারী। পাশে মাথার কাছেই মশার কয়েল জ্বালিয়ে হাতপাখা নাড়ছেন আরেকজন। সোমবার ভোর ছয়টা থেকেই এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কিডনী রোগে আক্রান্ত মাফিয়া বেগমের জামাতা রিয়াজ হোসেন। রিয়াজ হোসেন বলেন, আমার শাশুড়ি কোনভাবেই পাখা ছাড়া থাকতে পারে না। সারাক্ষণ শুধু হাঁসফাঁস করছে। অথচ ১২ ঘণ্টার উপরে হয়েছে হাসপাতালে বিদ্যুৎ নাই। একটি সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ নাই এটি হতে পারে না। 
অস্ত্রোপাচার হয়েছে মাঝে আক্তারের। চিকিৎসকের পরামর্শ শুকনো জায়গায় রাখা, কিন্তু এমন জলাবদ্ধতায় আর বিদ্যুৎ হীনতায় প্রতিনিয়ত ঘেমে উঠে তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানাবেন তার মেয়ে নিলুফা আক্তার। তার অভিযোগ, পানি ওঠার পর থেকে ডাক্তার নার্সরাও আসে নাই ঠিকমত। তার ওপর বিদ্যুৎ নেই আলো নেই বাতাস নেই। সামর্থ্য থাকলে আমি আমার মাকে অন্য কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। 
এমন অবস্থায় রাত ৯টায় হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবদুল করিম খন্দার। পরে রাত ১০টায় তিনি জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর থেকেই আমাদের ইলেক্ট্রিশিয়ানরা কাজ শুরু করে দেয়। বর্তমানে হাসপাতালে বিদ্যুৎ আছে।



















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২