কুমিল্লার
দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত
প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে
পড়েছেন অন্তত ৩ লক্ষ মানুষ। দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে প্রতিদিন
হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালক
ব্যবহার করলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন আর চলাচল করার
মত কোন অবস্থা নেই।
গত রবিবার (১২ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা
গেছে, সড়কটির প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ দেবিদ্বার উপজেলার এবং বাকি আড়াই
কিলোমিটার মুরাদনগর উপজেলার অংশ। এই দুই উপজেলার মানুষের যাতায়তের অন্যতম
প্রধান মাধ্যম এ সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে সৃষ্টি
হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও ইট-খোয়া বেরিয়ে এসেছে,আবার কোথাও বড়
বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশের
গর্তগুলো সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে। এতে কোনটি সড়ক আর কোনটি গর্ত
তা বোঝার উপায় নেই। প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালক,
পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছেন। বিশেষ করে রোগীবাহী
অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি রোগী নিয়ে
হাসপাতালে যেতে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জানা
গেছে, এই সড়কটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পান্নারপুল-বাখরাবাদ হয়ে সরাসরি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়াটগঞ্জে সংযুক্ত হয়েছে। সড়কটি এক সময় পেট্রোল
বাংলার অধীনে ছিল। পরে এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে
সড়কের একটি অংশ অর্থাৎ ইলিয়াটগঞ্জ থেকে নহলচৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় স্থানান্তর করা হয়। দুই উপজেলার লাখ লাখ
বাসিন্দা অল্প সময়ে ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থানে যাতায়ত করতে এই সড়কটি
ব্যবহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, এই সড়কের
আশ-পাশে কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
আমার চোখের সামনে শিক্ষার্থীদের বহন করা অটোরিক্সা উল্টে পড়ছে। প্রতিদিন
কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটছেই। গত কয়েক বছর আগে শুনেছি সংস্কার করা হবে কিন্তু
আশ^াস দিলেও বাস্তবে কেউ এগিয়ে আসছে না। মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলার এই
জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কারা সংস্কার করবে এই নিয়েও চলছে রশি টানাটানি। এই
যদি হয় অবস্থা তাহলে সাধারণ মানুষ আর যাবে কোথায়। দেবিদ্বার পৌরসভার ১নং
ওয়ার্ডের কমিশনার মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আর্দশ
উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বড় বড় গর্ত রয়েছে। পান্নারপুল থেকে চৌমুহনী প্রায় ৫
কিলোমিটার সড়কে এই অবস্থা। রাস্তায় বের হতে পারি না মানুষ মন্দচারী বলে। কি
জবাব দেব বলেন। সড়কটি দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে পড়ছে, এই দুই
উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে
টানাপোড়েনের কারণে সংস্কার কাজ হচ্ছে না। একাধিকবার সংস্কারের আশ্বাস দিলে
বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা উপসকারি প্রকৌশলী মো.নাজমুল
হাসান বলেন, এই সড়কটি কিছু অংশ দেবিদ্বারের অংশ হলেও সংস্কারের আইডি
অর্ন্তভুক্ত হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার। আমরা শুনেছি এই সড়কটির নাটি টেন্ডার
হয়ে গেছে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ন বলেন,
পান্নারপুল থেকে নহলচৌমুহনী পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজের ইতিমধ্যে টেন্ডার
হয়ে গেছে। ঠিকাদারও অলরেডি চলে আসছে। বৃষ্টি মৌসুমের কারণে কাজ করা যাচ্ছে
না। আগামী এ সপ্তাহের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
কুমিল্লাসড়ক
ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন,
ইলেটগঞ্জ থেকে নহলচৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়।
পান্নারপুল-নহলচৌমুহনী সড়কটি আমাদের নয়, এই অংশটি স্থানীয় সরকার বিভাগের।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মুরাদনগর বা দেবিদ্বার উপজেলার কারও সঙ্গে কথা বললে
বিস্তারিত জানা যাবে।
