
ইসরায়েলের
রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের
অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি ও এমনকি
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ‘ধূর্ত ও কৌশলী শয়তান’ বলে পরিচিত শাসক নেতানিয়াহুর
বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে বলে এখন হামেশাই গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু
তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তাঁর শাসনকালকে আরো দীর্ঘায়িত করার জন্য হন্যে হয়ে
উঠেছেন বলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত হাজির করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সে কারণে
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নেতানিয়াহু যে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তাকে
আরো দীর্ঘায়িত করার প্রয়াস পাচ্ছেন।
তাঁর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হামাসকে
নির্মূল ও গাজা ভূখ-কে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে
নেওয়া এবং পাশাপাশি তার শাসনকালকে আরো দীর্ঘায়িত করা।
ষড়যন্ত্রের জাল
বিস্তার করছে ইসরায়েলজাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের
সব পরাশক্তি দ্বিরাষ্ট্রের ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের
বিরাজমান সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও নেতানিয়াহু তা মানতে রাজি হচ্ছেন না।
তাঁর সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য হচ্ছে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর থেকে ভূমধ্যসাগর
পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখ-সহ একটি বৃহত্তর ইহুদি রাষ্ট্র গঠন করা এবং নিজের
অনৈতিক ও অন্যায্য শাসনকে আরো সুদৃঢ় করা। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর
থেকে মাত্র এক মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ
বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গির দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।
ইসরায়েল ও
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদি ধর্মাবলম্বীরাসহ শান্তিকামী বিশ্ববাসী
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সমস্যার রাজনৈতিকভাবে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে
তৎপর হয়ে ওঠে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে (১৯৪৮) বিগত ৭৫ বছর এবং
বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত
ভূমি দখল করার পর বিগত ৫৬ বছর যে অন্যায় ও বেআইনি দখলদারি, নির্যাতন ও
নিষ্পেষণ চালিয়েছে ফিলিস্তিনিদের ওপর, বিশ্ববাসী এখন তার সম্পূর্ণ অবসান
চায়। সবাই চায় এই দীর্ঘ সমস্যার একটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে
দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করুক। সব সংঘাত এড়িয়ে
এই অঞ্চল স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক।
এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে
নেতানিয়াহু চান সব কিছু ওলটপালট করে দিতে। তিনি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে
নিতে রাজি নন। তাঁর উদ্দেশ্য গাজা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত ও হামাস যোদ্ধাদের
নির্মূল করা, যা কোনোমতেই সম্ভব নয় এবং এ অবস্থায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা বৃদ্ধি করে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিকভাবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে
দেওয়া। ইহুদিবাদী ইসরায়েলের শাসক নেতানিয়াহু চান বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিক এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করুক।
ইরানের যাবতীয় পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস করুক এবং পাশাপাশি লেবাননের গেরিলা
সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের গেরিলা সংগঠন আনসারউল্লাহর সদস্যদের নির্মূল
করুক।
সে কারণেই ইহুদিবাদী ইসরায়েলের শাসক নেতানিয়াহু এখন গাজা ও পশ্চিম
তীর ছাড়াও লেবানন ও সিরিয়ার দিকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে তুরস্ক, মিসর, জর্দান কিংবা সৌদি আরব এ ব্যাপারে
তেমন সরব কিংবা সক্রিয় হয়ে উঠতে চাচ্ছে না। তারা মুখে মুখে ফিলিস্তিনিদের
মুক্তির কথা বললেও তলে তলে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে
সম্পর্ক সুদৃঢ় করার কথা ভাবছে। এতে তুরস্ক ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ
থেকে পাবে অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান ও পর্যাপ্ত পরমাণুসমৃদ্ধ অস্ত্রশস্ত্র এবং
অন্যান্য অগ্রসর প্রযুক্তি। আর মিসর ও জর্দান পাবে প্রচুর অর্থ সাহায্য
এবং অন্যান্য সুবিধা।
ইরান তার প্রক্সি গেরিলা যোদ্ধা হিজবুল্লাহ ও হুতি
বাহিনী দিয়ে দক্ষিণ লেবানন ও ইয়েমেনের উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা অব্যাহত
রাখলেও নিজে কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়াবে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও চায় না
ইরানের বিরুদ্ধে এ মুহূর্তে কোনো বড় অভিযান পরিচালনা করতে। কারণ
আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব-প্রতিপত্তিতে বর্তমানে দ্রুত যে
ভাটা বা নি¤œগামিতা দেখা দিয়েছে, তা ক্রমে ক্রমে তার অর্থনীতিতেও বিরূপ
প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তা ছাড়া আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অবস্থা অনেকটাই সংকটজনক বলে
প্রচারিত হচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁর রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইমারিগুলোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হলেও তাঁর প্রতি
যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ডেমোক্রেটিক শিবিরে যথেষ্ট
উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার ছায়া ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের
সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি ও সমর কৌশলের ধারক ও বাহক হয়েও প্রেসিডেন্ট বাইডেন
গাজা ও বৃহত্তর ফিলিস্তিনসহ ইসরায়েল কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ আরো ছড়িয়ে
পড়ুক, তা এ মুহূর্তে চান না। এতে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের শাসক নেতানিয়াহুর
প্ররোচনায় তিনি ক্ষমতা ও আধিপত্য সবই হারাবেন বলে আশঙ্কা করছেন। সে কারণেই
স্থায়ীভাবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার একটি
সমাধানের দিকে তিনি দ্রুত এগোতে চান।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হলে
এবং একটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোনোর সুযোগ হলে
ইহুদিবাদী নেতানিয়াহুকে দ্রুত ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। ইসরায়েলসহ
যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা মনে করছে নেতানিয়াহুর দিন ফুরিয়েছে। অতি দ্রুত তাঁর
শাসনের অবসান হওয়া উচিত। তাঁর নেতৃত্বে ইসরায়েলের অগ্রগতি ও স্থায়িত্ব আর
কোনোমতেই সম্ভব নয়। ইসরায়েলের গণহত্যা, সম্প্রদায়গত বিপর্যয় কিংবা বর্ণ ও
সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ এবং সমস্যা ফিলিস্তিন দখলের অন্যায্য ও বেআইনি
কার্যক্রমকে কোনোমতেই আর এগোতে দেওয়া যাবে না। ‘পিস ফরল্যান্ড’ এবং ‘নট ইন
আওয়ার নেইম’সহ ইহুদি নাগরিকদের বিভিন্ন সংগঠন এখন ফিলিস্তিন সমস্যার একটি
ন্যায়সংগত ও দ্রুত সমাধানের জন্য প্রকাশ্যে রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছে।
তারা অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির জন্য
রাজনৈতিকভাবে চাপ দিতে শুরু করেছে। তারা এ ব্যাপারে তেল আবিব ও জেরুজালেমে
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা থেকে শুরু করে অবিলম্বে নেতানিয়াহুর
পদত্যাগ দাবি করে গণজমায়েত ও মিছিল করে যাচ্ছে। তবে এর বিরুদ্ধেও নিত্যনতুন
ফন্দিফিকির আঁটতে তৎপর রয়েছেন নেতানিয়াহু। এতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন,
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ইসরায়েলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে
দ্বন্দ্ব ক্রমে ক্রমেই আরো বাড়ছে। সে কারণে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কিংবা
অস্তিত্বের কথা চিন্তা করে ইহুদিবাদী নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের চরম
দক্ষিণপন্থী রাজনীতিকদের এখন বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেছেন
প্রেসিডেন্ট বাইডেন। কিন্তু তার পরও ইসরায়েলি ইহুদিবাদী নেতৃত্ব কিংবা
ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব, সমর্থন ও সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক
মহলে থেকেই যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক, কূটনীতিক ও পুঁজিপতিদের
ইহুদিপ্রীতির পেছনে যে কারণটি প্রধান বিবেচ্য হিসেবে কাজ করে তা হচ্ছে,
জনসংখ্যার দিক থেকে অতিসামান্য হলেও ইহুদিরা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের
অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তা ছাড়া রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রশাসনিকসহ
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তারাই যুক্তরাষ্ট্র চালায় এবং
নীতিনির্ধারণের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমেরিকান-ইসরায়েল
পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (অওচঅঈ) নামে শক্তিশালী একটি কেন্দ্রীয় ইহুদি
লবির (প্রতিষ্ঠান) অর্থে কংগ্রেসের উভয় হাউসের অনেক সদস্য নির্বাচন করে
থাকেন। নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের বিভিন্ন প্রার্থীকে
মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। তা থেকে বিভিন্ন দলের
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরাও বাদ পড়েন না। মূলত সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের
কংগ্রেস সদস্য ও এমনকি প্রেসিডেন্টরাও ইহুদি লবির কাছে বাঁধা পড়ে যান।
ইহুদিদের সিদ্ধান্ত কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন রাজনীতিক,
সিনেট কিংবা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে
পড়ে। ইহুদি লবির মন জুগিয়ে কাজ করতে হয় স্বয়ং প্রেসিডেন্টকেও। ইহুদি
সংস্থার নেতারা নির্ধারণ করেন অস্ত্র রপ্তানিসহ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের
ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন ব্যাংক, বীমা,
পুঁজিসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য। তাঁরাই নেতৃস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
হাসপাতাল, শিপিং লাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে
থাকেন। সে কারণেই ইহুদিবাদী ইসরায়েল রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত
গুরুত্বপূর্ণ। এবং এরই প্রতিফলন দেখা যায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে
যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো প্রদানের ক্ষেত্রে। ইসরায়েলের স্বার্থের পরিপন্থী, তা
যত অন্যায় কিংবা অন্যায্যই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র চোখ বন্ধ করে তাতে
ভেটো প্রদান করে। ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়া কোনো আরব কিংবা মুসলিম
দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি করতে পারে না। সে কারণেই তুরস্ক,
সৌদি আরব, আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্য অথবা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের
সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চায়। আর তখনই ইহুদিবাদী ইসরায়েল তাদের বিভিন্ন
ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ করতে থাকে।
উল্লিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলকে অতি
কৌশলের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ও মুক্ত নাগরিক সমাজ সে
অবস্থা থেকে এখন বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পাশাপাশি শান্তিকামী,
মানবতাবাদী ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ইহুদিরাও সে ষড়যন্ত্রের
নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে একটি
পরিবর্তন এখন অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে। কয়েক মাসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে
বিশ্ববাসী কিছু পরিবর্তন বা উন্নতি দেখবে বলে আশা করা যায়।
লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
