মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
১ শ্রাবণ ১৪৩১
অবৈধ উপার্জন থেকে দান করলে কি কবুল হয়?
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪, ৯:২২ পিএম |

অবৈধ উপার্জন থেকে দান করলে কি কবুল হয়?মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন সুন্দরতম অবয়ব। শিক্ষা দিয়েছেন হালাল-হারাম পথ। বলে দিয়েছেন, হালাল পথে রয়েছে, অফুরন্ত জান্নাতের নেয়ামত। আর হারাম উপার্জনে রয়েছে, জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তি।

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামি শরিয়তের দিকনির্দেশনা হলো হালাল পথে জীবিকা উপার্জন করা। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‌

“যে ব্যক্তি হালাল খাবার খেয়েছে, সুন্নাহ মোতাবেক আমল করেছে ও মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে, সে জান্নাতে যাবে। (তিরমিজি: ২৫২০)”

অন্যায়, অবৈধ পন্থায় সব উপার্জন হারাম। সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, জুয়া, মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি, জবরদখল, যৌতুক, প্রতারণা ও প্রশ্নফাঁসসহ যাবতীয় অসামাজিক অনাচারে লিপ্ত হয়ে জীবিকা উপার্জন করা হারাম। এসব পন্থায় উপার্জন করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ নিষেধ করে বলেন,

لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ وَ تُدۡلُوۡا بِهَاۤ اِلَی الۡحُكَّامِ لِتَاۡكُلُوۡا فَرِیۡقًا مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ بِالۡاِثۡمِ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ 
অর্থ: তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পন্থায় গ্রাস কোরো না এবং মানুষের ধনসম্পত্তির কিয়দাংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে নিয়ে যেয়ো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

জীবন চলার পথে সুখ-দু:খ আসবে। তবে সব সময় হালাল পথেই চলতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পবিত্র বস্তু আহার করো, যেগুলো আমি তোমাদের রিজিক হিসেবে দান করেছি এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা একমাত্র তারই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭২)

হারাম উপার্জন থেকে দান করে নেকির আশা করাটাও গুনাহের কাজ। অনেকের ধারণা অবৈধ উপার্জন করে কিছু দান করে দিলে আর হজ সম্পাদন করলে সব সম্পদ বৈধ হয়ে যায়! অথচ বিষয়টি মোটেও সত্য নয় । অবৈধ উপার্জনের জন্য অবশ্যই কিয়ামতের দিন জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে।  
 
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কিয়ামতের দিনে কোনো মানুষ নিজের স্থান থেকে এক বিন্দুও সরতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নেয়া হবে। তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের ধন-সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে?’ (তিরমিজি: ২৪১৭)

হারাম উপার্জনকারীর কোনো ইবাদতই মহান আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। এ উপার্জন ইসলামের দৃষ্টিতে অপবিত্র বস্তু। আর ইবাদত, দোয়া, দান-সদকা পবিত্র জিনিস, যা কেবল পবিত্র বস্তুর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা আবশ্যক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন,

“এমন কখনো হবে না যে কোনো বান্দা হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করবে, এরপর তা থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করবে এবং তাতে বরকত দান করা হবে; সে তা থেকে সদকা করবে এবং তা কবুল করা হবে। বরং ওই ব্যক্তি সেই সম্পদ মৃত্যুর পর রেখে গেলেও তা তাকে আরও বেশি করে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা গুনাহ দিয়ে অন্য গুনাহ নির্মূল করেন না। তবে নেক আমল দিয়ে গুনাহ নির্মূল করেন। নিশ্চয়ই অপবিত্র বস্তু অপর অপবিত্র বস্তুর অপবিত্রতা দূর করতে পারে না। (মুসনাদে আহমদ: ৩৬৭২; মুসনাদে বাজ্জার: ২০২৬)”












সর্বশেষ সংবাদ
রাজাকারদের ভূমিকা সম্পর্কে এরা জানে?
কুমিল্লায় জোড়া খুনের মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড
কুবিতে এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
কুবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
কোটা আন্দোলন: নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাবির হলে থাকবেন শিক্ষকরা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
আমার বাসার কাজের লোক ৪০০ কোটি টাকার মালিক
লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে ভূয়া বিল, ভুয়া ডাক্তার
জুন মাসে ৬ খুন কুমিল্লায়
উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন কুমিল্লার নতুন কমিটি
কুমিল্লায় উল্টো রথযাত্রা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft