বুধবার ২২ মার্চ ২০২৩
৮ চৈত্র ১৪২৯
বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি
৯-১০ বছরের মধ্যেই আমাদের ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড অর্জন করতে হবে
মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩, ১:০৭ এএম আপডেট: ১৭.০৩.২০২৩ ২:০৮ এএম |

৯-১০ বছরের মধ্যেই আমাদের ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড অর্জন করতে হবে
শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, আমাদের ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জতিক অঙ্গীকার রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জণের। তার জন্য আমাদের কাজ চলছে। আমাদের এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বলেছেন, ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ডের কথা। ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড তখনই একটি জাতি পায়, যখন তার কর্মক্ষম জনশক্তি, জনসংখ্যা তার নির্ভরশীল জনসংখ্যার চাইতে বেশী থাকে। আমাদের দেশে এখন সে অবস্থাটি চলছে, কিন্তু এটি আর খুব বেশীদিন থাকবে না। ২০৩০-৩১ সালের পর থেকে আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার সংখ্যাটা বাড়তে থাকবে, কর্মক্ষম জনসংখ্যার চাইতে। কাজেই আমাদের এই আগামী ৯-১০ বছরের মধ্যেই আমাদের এই ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড অর্জণ করতে হবে। কথাটার মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে, আমাদের কি করতে হবে। ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড। ডিভিডেন্ড মানেই লভ্যাংশ। লভ্যাংশ বিনিয়োগ ছাড়া পাওয়া যায়না। তাহলে আমাদের এই ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড পেতে হলে শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজটি করছেন। শিক্ষায় তিনি ব্যাপক ভাবে বিনিয়োগ করছেন।  
ডা. দীপু মনি এমপি বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পুর্তির সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি।
সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল নাছের, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ¦ আবদুর রাজ্জাক, সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. মোসলেহ উদ্দিন সরকার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদ হোসেন, এনডিসি হেলাল উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম খসরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তমাল ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরকার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার মতই যা কিছু বলেন, তিনি তা করেন। ২০০৮ সালে দিন বদলের সনদে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে। মধ্যম আয়ের দেশ হবে। সেটি আমরা হয়েছি। আবারো ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ সুখি শান্তিময় স্মার্ট বাংলাদেশ হবো। সেটি নশ্চই আমরা হিবো। সে জন্যই আমরা প্রস্তুত হবে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশের মূল স্তম্বগুলো হচ্ছে- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতিজ, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সমাজ। তার মূলে রয়েছে স্মার্ট নাগরিক। সেই স্মার্ট নাগরিক হবে আমাদের শিক্ষার্থীরাই। যারা আজকে পড়াশোনা করছে। যারা আগামী দিনে স্কুল কলেজের পড়াশোনা করবে।
তিনি বলেন, স্মার্ট নাগরিক গড়তে হলে আমাদের স্মার্ট শিক্ষা লাগবে। সেই স্মর্ট শিক্ষা হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষা। একই সঙ্গে মানবিকতার শিক্ষা, একই সঙ্গে সৃজনশীলতার শিক্ষা। আমরা যেমন সাহিত্য পরবো, যেমন নৌতিকতা শিখবো, আমরা যখন আমাদের ইতিহাস জানবো, আমাদের সমাজ সম্পর্কে জানবো, আমরা গনিত শিখবো, একই সঙ্গে বিজ্ঞান প্রযুক্তি আমাদেরকে আবশ্যই অবশ্যই শিখতে হবে।
শিক্ষা মস্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষাক্রম হবে সৃজনশীল, মানবিক, চিন্তাশীল ও যোগাযোগ নির্ভর। ফলে বর্তমান প্রজন্মকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের মগজ ধোলাই করার দিন শেষ হয়ে যাবে এটা বুঝতে পেরে একটি পক্ষ পাঠ্য বই নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাঁরা পাঠ্যবই নিয়ে বলছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য যদি সৎ হতো, তাহলে নিশ্চয় তাঁরা মিথ্যার আশ্রয় নিতেন না। কদর্য আচরণ করতেন না। বিভিন্ন কিছু এডিটিং করে গুজব ছাড়াতেন না। এরা কারা? এরাই তারা, যারা পঞ্চাশের দশকে বলেছিল, নৌকায় ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। কৈ গত পঞ্চাশ বছরেতো কারো বিবি তালাক হয়নি! এরাই তারা, যারা নব্বইয়ের দশকে বলেছিল, নৌকায় ভোট দিলে ফেনী পর্যন্ত ভারতের অংশ হয়ে যাবে, মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি হবে। এর কোনোটিই কিন্তু ঘটেনি। বরং বঙ্গবন্ধুর তনয়া প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ডিজিটাল করে স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।’
বক্তব্য শেষে বিদ্যালয়ের পাচঁজন সাবেক শিক্ষকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংঙ্গীত পরিবেশন করেন, জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী আঁখি আলমগীর।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বর্তমানে স্কুলটিতে দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত। এ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে অনেক ছাত্র-ছাত্রী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক হাজার দুইশত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী নিবন্ধন করেছে।













সর্বশেষ সংবাদ
চৌদ্দগ্রামে আশ্রয়ণের ১২৪ ঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
দেবিদ্বারে জমিসহ ঘর পেল ১৫০ গৃহহীন পরিবার
রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
পুরো রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের দাবি
ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলো জিম্বাবুয়ে
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
শওকত মাহমুদকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার
পুরো রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের দাবি
পুরো শহরেই যানবাহনের জটলা
দাউদকান্দিতে নারীর লাশ উদ্ধার
সবচেয়ে খরুচে রমজান এবার!
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft