বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪
৫ বৈশাখ ১৪৩১
ইতিহাস ২০২২ সাল ভুলে যেতে পারবে না
গাজীউল হাসান খান
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০২ এএম |

 ইতিহাস ২০২২ সাল ভুলে যেতে পারবে না
নিঃসন্দেহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত অশ্বেতাঙ্গ ঋষি সোনাকের যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় এবং মার্কিন প্রভাববলয় ভেদ করে শেষ পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সৌদি আরবে অনুপ্রবেশ করার মতো ঘটনাগুলো ২০২২ সালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ দীর্ঘ বাক্যটির মতোই ২০২২ সালে সংঘটিত ঘটনাগুলোর রেশ কিংবা প্রভাব বিশ্বমানবের ইতিহাসে এক প্রলম্বিত ছায়া ফেলে যাবে বলে অনেকের বিশ্বাস। আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাবনতি ঠেকিয়ে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রাখার জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক নতুন সাম্রাজ্যবাদী প্রয়াস ও নীলনকশা হাতে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাশিয়া-চীন প্রভাব বলয়ের সঙ্গে তাদের হয়েছিল এক নতুন শীতলযুদ্ধের অতারণা, যা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য ইউক্রেন আক্রমণের এক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এর কোনো অবসান কিংবা শান্তিপূর্ণ মীমাংসার সম্ভাবনা এখনো সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেনি। অথচ জ্বালানি ও খাদ্যসংকটে শুধু ইউক্রেন নয়, শিল্পসমৃদ্ধ ইউরোপ ও বিশ্বের অন্য অগ্রসরমাণ অঞ্চলগুলো দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
এ অচলাবস্থা বিরাজ করতে থাকলে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত বা উন্নয়নশীল অংশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমঝোতা কিংবা বোঝাপড়ার ভিত্তিটা খুব তাড়াতাড়িই ভেঙে পড়বে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে উৎপাদন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বর্তমান জ্বালানিসহ অন্যান্য সংকট বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মূল্যস্ফীতিসহ এক অর্থনৈতিক মন্দার কালো থাবা ছড়িয়ে দিচ্ছে অতিদ্রুত। সে কারণে বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতিতেই অসচ্ছলতা ও রিজার্ভসংকট মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করে আশঙ্কাজনকভাবে। এরই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষকে। কিন্তু সেই সংকট নিরসনে যে যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ; তা অগ্রসর হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিতভাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর তথাকথিত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পশ্চিমা শক্তির প্রধান মোড়ল সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন-পরবর্তী রাশিয়াকে আবার ভেঙে টুকরা টুকরা করার যে নীলনকশা হাতে নিয়েছিল, তা এখন হিতে বিপরীত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অর্থাৎ রাশিয়ান ফেডারেশনের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অস্তিত্বকেই অনেকটা নড়বড়ে করে তুলেছে। কারণ কোরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী ‘শীতল লড়াই’-এর যুগের অবসান হয়েছে অনেক আগে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কিংবা আমদানি-রপ্তানি এখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নিয়মে চলে। মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশই এখন একে অন্যের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় উৎপাদনশীল কিংবা শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্ব এখন রাশিয়া, সৌদি আরব ও ইরানসহ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য রাসায়নিকসামগ্রী সরবরাহের বিষয়টি। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধের ধার এখন অনেকখানিই কমে আসছে। কারণ সেই অর্থনৈতিক অবরোধ জারির বিষয়টি এখন তার ইউরোপীয় সহযোগী শক্তিগুলোই অমান্য করতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি ২০২২ সালে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনার ইতিহাসে বিশেষভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। এর পাশাপাশি স্থান পাবে রাশিয়া-চীন আর্থ-রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ইরান, সৌদি আরব, আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যের তুরস্কসহ অন্যদের নতুন মেরুকরণের বিষয়টি। দীর্ঘদিনের এ চলমান বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে ২০২২ সালের যবনিকাপাতের আগেই। সুতরাং বর্তমান চলমান বিশ্বের আর্থ-রাজনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের উল্লেখ বারবারই আমাদের সামনে আসবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করে।
এ সময়ে সংঘটিত আরেকটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরটি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রভাববলয় ভেদ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সৌদি আরব সফর বহু কারণে একটি ঐতিহাসিক এবং বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। প্রতিবেশী ইয়েমেনের বিভিন্ন সৌদি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এ অঞ্চলে ইরানের ‘প্রক্সিওয়ার’ চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব, আমিরাত কিংবা অন্যান্য গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলো তাদের দীর্ঘদিনের পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের প্রতিরক্ষা কাঙ্ক্ষিত আশ্বাস পায়নি। পক্ষান্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে বর্তমান জ্বালানি সংকটকালীন সৌদিরা পেয়েছে তাদের তেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য উপর্যুপরি চাপ। পায়নি সৌদি আরবসহ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরবরাহ কিংবা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তাতে বিগড়ে যান সৌদি প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এবং আমিরাতপ্রধান মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)। তাঁরা তখন তাঁদের প্রতিরক্ষার জন্য হাত বাড়ান রাশিয়া এবং বিশেষভাবে চীনের দিকে। চীনের সঙ্গে সৌদি প্রধানমন্ত্রী সালমানের বহুমাত্রিক বিষয়ে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বহু আগে থেকেই। প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ, যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র উৎপাদন এবং এমনকি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়টিও এগিয়ে গেছে অনেক দূর।
অন্যদিকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে চীনের দিক থেকে ছিল সাশ্রয়ী মূল্যে সৌদিদের কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং ডলারের পরিবর্তে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে দেনা-পাওয়া পরিশোধের বিষয়টি। তা ছাড়া এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তে বহুপক্ষীয় বিশ্ব গড়ে তোলার তাগিদও ছিল উভয়ের মধ্যে। সে কারণে ২০২২ সালের শেষ ভাগে এসে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরে আসার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন চীনের নেতা শি চিনপিং। তাঁর সৌদি আরব সফরের সময় জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে তিনি বিভিন্ন শীর্ষসভায় যোগ দিয়েছেন। শি চিনপিং তাঁর অবস্থানকালে সৌদি আরব ও জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে ৩০টির বেশি জ্বালানি ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তবে সৌদি আরবসহ জিসিসি সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে কী কী চুক্তি বা সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন তা কৌশলগত কারণে এখনো অনেকটা গোপনই রয়ে গেছে। এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো সদস্যদের অবশ্যই বেশ কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

২০২২ সালে সূচিত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে অত্যন্ত সংশয়ের মধ্যে পড়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। প্রথম দিকে তাঁরা ভেবেছিলেন বড়জোর ছয় মাস চলতে পারে এই সংঘর্ষ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তার বিপরীত। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলমান সংঘর্ষকে আরো বহু দূর টেনে নিয়ে যেতে চান। তাতে জ্বালানি, খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইউরোপের শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলো। তাদের উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে জ্বালানির অভাবে। এ অবস্থায় আর কত দিন তারা জো বাইডেনের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে পারবে? সেটি নিয়ে এখন এক সরব বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান সমঝোতার অবসান ঘটাতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়তে পারে ন্যাটো জোট। এবং গড়ে উঠতে পারে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এ অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে তাদের প্রতিবেশীসুলভ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে মারাত্মক কোনো অবস্থার সৃষ্টি হবে না। বরং রাশিয়া পাইপলাইনে জ্বালানি পেতে কিংবা নৌপথে খাদ্যশস্য সরবরাহ পেতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া ইউক্রেন নিয়ে তাদের কোনো সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা অতীতেও ছিল না, এখনো নেই।
অন্যদের মধ্যে ২০২২ সালে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি যুক্তরাজ্যে ঘটে গেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। আর তা হচ্ছে, ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের (কনজারভেটিভ পার্টি) নেতা ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অশ্বেতাঙ্গ সংসদ সদস্য ঋষি সুনাক। করোনাকালীন সংঘটিত কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলে দলের নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ স্ট্রাস। কিন্তু তাঁর অপরিপক্ব নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ব্রিটিশ সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের পর সাবেক অর্থমন্ত্রী ও লিজ স্ট্রাসের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী (নেতৃত্বের) ঋষি সুনাক আবার দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সফল হন। তাতে অবাক হয়েছেন অনেকে। কারণ ব্রিটিশ সমাজে বর্ণবাদ ও বর্ণবৈষম্য নতুন কিছু নয়। সেই সমাজ পরিবর্তনশীল হলেও এখনো যথেষ্ট সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী হিসেবে অভিযোগমুক্ত হতে পারেনি। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হয়েছে, যা ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্রীড়ামোদীদের কাছে ২০২২ সাল আরো একটি কারণে অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর তা হচ্ছে, এবার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়। এ নিয়ে আর্জেন্টিনা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ জয় করেছে। এর আগে তারা ১৯৮৬ সালে শেষবার ফুটবল শিরোপা হাতে তুলে নিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপের পর লিওনেল মেসি হয়তো আর ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন না। সম্ভবত তিনি আগামী বিশ্বকাপের আগেই অবসরে যাবেন। তাই বিশ্বের ফুটপ্রেমীদের এক বিশাল অংশ চেয়েছিল এবারের বিশ্বকাপ মেসির হাতে উঠুক। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সর্বাঙ্গীণ সমর্থনের জন্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীরা। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল যেন বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনাকে এক সূত্রে গেঁথে ফেলেছিল।
বিদায়ি বছরটি বাংলাদেশিদের কাছে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে আরো একটি বিশেষ কারণে। এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। যুক্তরাজ্য উত্থাপিত সেই প্রস্তাব বিশেষভাবে সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে ১২টি দেশ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টির পক্ষে ভোট দেয়। চীন, ভারত ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকলেও বিরোধিতা করেনি। ওই সময় সভাপতির আসনে ছিল ভারত। স্থানাভাবে ২০২২ সালে সংঘটিত আরো অনেক বিষয় তুলে ধরা সম্ভব হলো না। সে জন্য দুঃখিত। সবাইকে একটি সুন্দর নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
[email protected]












সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন,আটক ৩
স্বাগত ২০২৩: অকল্যান্ডে আতশবাজির মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ
কুমিল্লায় অভাবের তাড়নায় মা-মেয়ের আত্মহত্যা
সাবেক পোপ বেনেডিক্ট মারা গেছেন
কুমিল্লায় নির্মানাধীন ভবনের প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় অভাবের তাড়নায় মা-মেয়ের আত্মহত্যা
কুমিল্লায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন,আটক ৩
মাহির মনোনয়ন নিয়ে যা বললেন ডা. মুরাদ
স্কুলে ৪ শ্রেণিতে এবার নতুন শিক্ষাক্রম
আওয়ামী লীগ ১২ স্বতন্ত্র ৫
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft