
স্টাফ
রিপোর্টার।। বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কৃত ও সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র
প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, ৯ বছরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আমি যদি
অন্যায় করে থাকে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হইতো, শোকজ হইতো, মামলা হইতো। ৯ বছরে
কেইস খাইলাম না। মেয়র পদে উনি (আরফানুল হক রিফাত) দাঁড়ানোর পরে উনি একটা
কথা বলতেছে এটা তো ঠিক না।
সাক্কুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উঠান বৈঠকে আওয়ামী
লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির
শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে
বক্তব্য রাখেন। সে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিকরা জানতে চাইলে
বৃহস্পতিবার এ সব কথা বলেন মনিরুল হক সাক্কু।
সাক্কু বরেন, ৯ বছর উনি
কুমিল্লার নাগরিক, ৯ বছর বললো না কেন? আমি তো নয় বছর দায়িত্ব পালন করলাম।
সিটি করপোরেশনে এতো অরাজকতা হয়ে থাকলে মাসে মাসে উনি তদন্তের জন্য লেখতে
পারতো। স্থানীয় সরকারের কাছে লেখতে পারতো, উনি একটা প্রভাবশালী নেতা। উনি
নির্বাচনে মেয়র পদে দাঁড়ানোর পড়ে বলতেছে। উনি যদি না দাঁড়াতো তাহলে বলতো
সাক্কুর মতো ভালো লোক নাই। আমি দাঁড়াইছি উনি দাঁড়াইছে, কে ভালো করবে আল্লাহ
জানে। আমি যদি খারাপ লোক হয়ে থাকি তাহলে ৯ বছরে কেন সরকার আমাকে এই পদে
বসিয়ে রাখলো। আমার প্রশ্ন উনার কাছে। উনি উনার কথা না বলে, আমি চোর, উনি
চোর ধরার দায়িত্ব নিছে, দায়িত্ব নিবে সরকার। আমি যদি চোর হয়ে থাকি অরাজকতা
করে থাকি সরকার আমাকে দেখবে।
এদিকে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে
প্রধান তিন প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর পর
থেকে নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ
প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু এবং নিজাম
উদ্দিন কায়সার। এই তিন প্রার্থীর পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। চলছে মাইকিং,
গানে-গানে প্রচারণা।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা
প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত নগরীরের বিভিন্ন এলাকায়
প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন। শুরুতেই তিনি কান্দিরপাড়
ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে গণসংযোগ করেন। সেখান থেকে ছাদখোলা
গাড়িতে করে রাজগঞ্জ, চকবজার, সুজাগনগর, শুভপুর পূর্বচানপুর এলাকায় গণসংযোগ
করেন। পরে শুভপুর মোড়ে পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এসময় আরফানুল হক
রিফাত বলেন, কুমিল্লার যানজট, জলাবদ্ধতাসহ সকল নাগরিক সমস্যা সমাধানে
আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করুন; আমি আপনাদেরকে একটি
সুন্দর নগরী উপহার দিবো।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাহার হাইস্কুলের
সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি ওই ওয়ার্ডের ধনাইতলী জামতলা
প্রাঙ্গণে উঠান বৈঠক, ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, বিকালে ধনপুর
ঈদগাহ মাঠ এবং শামবকসি উত্তর পাড়া জামে মসজিদের সামনে উঠান বৈঠক করেন।
এসময় তিনি বিগত সময়ে তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পুনরায় তাকে ভোট
দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করতে ভোটাদের প্রতি আহবান জানান।
অপর স্বতন্ত্র
মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকেই প্রচারণায়
নেমে পড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন
এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় নিউমার্কেট,
সাত্তার খান, খন্দকার মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ এবং প্রচারপত্র
বিলি করেন।
এসময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, অবহেলিত কুমিল্লা নগরীর
নাগরিক সমস্যা দূর করতে আমাকে ভোট দিন। সুখে-দুঃখে আপনারা আমাকে পাশে
পাবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান
বাবুল বলেন, জমজমাট না হলেও আমি ধীরে-সুস্থে প্রচার চালাচ্ছি। পোস্টার
লাগানো চলছে। লিফলেট বিতরণ চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর রাজাপাড়া
এলাকায় গণসংযোগ করেছি। সেখান থেকে সালমানপুর যাবো।