ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
রূপালীর মরদেহের ঠাঁই হল না স্বামীর বাড়িতে!
Published : Wednesday, 25 May, 2022 at 12:00 AM, Update: 25.05.2022 2:50:06 AM
রূপালীর মরদেহের ঠাঁই হল না স্বামীর বাড়িতে!রণবীর ঘোষ কিংকর||
দুই সন্তানের জননী রূপালী আক্তার। পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পাশ্ববর্তী গ্রামে। স্বামীর সংসারে বেশ সুখেই দিন কাটছিল তার। হঠাৎ পরিকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন নিজ পিত্রালয় সংলগ্ন মক্তবের শিক্ষকের সাথে। প্রেমের টানে স্বামীর সংসার ফেলে মক্তবের শিক্ষকের সাথে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হন তিনি।
কিন্তু দ্বিতীয় বিবাহের পরই ঘটে বিপত্তি। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোল জুড়ে আসে ফুটফুট এক কন্যা সন্তান। ওই সন্তানকেও দত্তক দিয়ে দেন অন্যত্র। শুরু হয় যৌতুকের দাবীতে স্বামীর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে প্রাণ হারান রূপালী। মৃত্যুর পরও স্বামী গৃহে ঠাঁই হলো না তার।
রুপালীর নিথর দেহ সিএনজি অটোরিক্সায় বসিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার পিত্রালয়ে!
অমানবিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের মস্কিপুর গ্রামে। ওই ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান স্বামী ফয়সাল সহ তার পরিবার। নিহতের মা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত শাহআলম এর মেয়ে রূপালী আক্তার। প্রায় ১১ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে একই ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে বিবাহ দেওয়ায় এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জননী হন রূপালী। বাপের বাড়িতে থেকে সন্তানকে পার্শ্ববর্তী একটি মক্তবে আরবী পড়ানোর সুবাদে ঘনিষ্ট হন ওই মক্তবের শিক্ষক ফয়সাল এর সাথে। এক পর্যায়ে ১ম স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রায় দুই বছর পূর্বে ফয়সালের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় স্বামী ফয়সালের সংসারে আরও একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। কয়েক মাস পর ওই কন্য শিশুটিকে অন্যত্র দত্তক দিয়ে দেন ফয়সাল। আর যৌতুকসহ নানা অযুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন স্বামী ফয়সাল ও তার পরিবার।
রূপালীর মা সাফিয়া বেগম জানান,  গত ১৮ মে (মঙ্গলবার) রূপালীকে অমানবিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আমার মেয়ের মৃত্যুকে ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে সিএনজি অটোরিক্সায় বসিয়ে আমার বাড়ি (চান্দিনার পূর্বরামচন্দ্রপুরে) পাঠিয়ে দেয় তারা। খোশবাস ইউনিয়নের মনির হোসেন মেম্বারসহ কয়েকজন অজ্ঞাত লোক আমাদের বাড়িতে মরদেহ ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রামচন্দ্রপুর গ্রামের লোকজন অপর একটি সিএনজি অটোরিক্সা যোগে রূপালীর মরদেহ তার স্বামীর বাড়ি মস্কিপুরে নিয়ে গিয়ে দেখে তার স্বামীসহ পরিবারের কেউ বাড়িতে নাই।
খরব পেয়ে বরুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রূপালীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করেন এবং কুমেক হাসপাতালে মরদেহ ময়নাতদন্ত করেন। পরদিন মরদেহ মায়ের কাছে হস্তান্তর করলে পিত্রালয়েই চিরনিদ্রায় শায়িত হন রূপালী।
এ বিষয়ে জানতে স্বামী ফয়সাল এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে খোশবাস ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মনির হোসেন এর ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ ইকবাল বাহার জানান ফয়সালের বাড়ী হতে রুপালী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্ত করার জন্য কুমিল্লা সরকারি মেডিকেল কলেজে  পাঠানো হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।