ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
গাজীপুরে দুই শিশুর হত্যার ঘটনায় দেবিদ্বারে শোকের ছায়া
পারিবারিক কবরস্থানে দুই শিশুর দাফন
Published : Monday, 6 December, 2021 at 12:00 AM, Update: 06.12.2021 1:02:37 AM
গাজীপুরে দুই শিশুর হত্যার ঘটনায় দেবিদ্বারে শোকের ছায়াদেবিদ্বার প্রতিনিধি: গাজীপুরে দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার দেবিদ্বারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রবিবার রাত ৯টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুরে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতদের এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার শত শত নারী পুরুষ ওই শিশুকে দেখতে ভীর করেন। এসময় পুরো বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণ হয়। শিশু দুইটির মুখ  দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। রাত ১০টায় দুই বোনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে লাশ দাফন করা হয়। নিহত দুই শিশু হলো, বড় আলমপুর দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে তাসনিম জাহান তাবিহা (৪)ও নুসরাত জাহান সাবিহা (৮মাস)।  
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর মুক্তার টেক এলাকার নাসরিন মঞ্জিলের সামসুল হকের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় ওঠেন লিজা ও বিল্লাল হোসেন দম্পত্তি। গত বৃহস্পতিবার বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার চাঁনপুর শ্বশুর বাড়ি থেকে গাজীপুরের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে শনিবার সন্ধ্যার কিছু পর বিল্লাল দোকানে যান শিশুদের খাবার আনার জন্য। এই সময় তার স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে তার দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
লিজার মামা মো. মোজাম্মেল হক জানান, গত ৫ বছর আগে বড় আলমপুর গ্রামের আবু কাশেমের ছেলে বিল্লাল হোসেনের সাথে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে লিজা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সাড়ে চার বছর লিজা সুস্থ থাকলেও গত ৭/৮ মাস আগে লিজা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে ঘরে রাগারাগি ও ভাঙচুৃর করত। তাকে বিভিন্ন চিকিৎসক ও কবিরাজের কাছে নিয়েও ভালো করা যায়নি। সে হঠাৎ করে মানসিক ভাবে অসুস্থ ও উত্তেজিত হয়ে যায়। ঘটনার পর লিজাকে পুলিশী পাহাড়ায়  চিকিৎসা দেওয়া হয়।এখন সে কিছুটা সুস্থ। তবে এখন তার সন্তানদের খুঁজছে। বারবার আমার সন্তান  কোথায় বলে চিৎকার করছে। আবার জ্ঞান হারাচ্ছে।  
দুই শিশুর দাদা মো.আবুল কাশেম বলেন, আমার বড় নাতিন বাড়ি এলে আমার সাথে এদিক সেদিক যেত। তাকে আমি কোলে নিয়ে ঘুরতাম। এখন আমি আর কাকে কোলে নেব? আমার ছেলের বউয়ের কোন দোষ নেই সে মানসিক অসুস্থ। তাকে বিভিন্ন চিকিৎসা করার পরও সুস্থ করা যায়নি। আমাদের ভাগ্যে এমন দিন দেখতে হবে সেটাই আসল কথা।  
প্রসঙ্গত, গত শনিবার গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর মুক্তার টেক এলাকায় সন্ধ্যায়  বিল্লাল হোসেন বাসায় ফিরে ঘরের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে বাড়ি ওয়ালা ও আশপাশের লোকজন ডেকে জানালা দিয়ে তিনজনকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দরজা ভেঙে দুই শিশুকে মৃত এবং তাদের মাকে অজ্ঞান অবস্থায় পান।