সোমবার ● ৯ নভেম্বর ২০২৬
২৫ কার্তিক ১৪৩৩
পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা,
দেবিদ্বারে এমপি হীরার গাড়ি অবরুদ্ধবিএনপির নেতার গাড়ি ভাঙচুর 
প্রকাশ: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১১.২০২৬ ১:০৮ এএম |

দেবিদ্বারে এমপি হীরার গাড়ি অবরুদ্ধবিএনপির নেতার গাড়ি ভাঙচুর শাহীন আলম ।।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মধ্যেই চাঁদপুরের সংরক্ষিত নারী আসন-৩-এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরাসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য বহিস্কৃত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারীরা। এসময় বিক্ষোভকারীরা এমপির গাড়ি অবরুদ্ধ করে গাড়ির সামনে ‘দালাল’ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে গাড়ি বহরের শেষে থাকা গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর চালায় মঞ্জু মুন্সীর অনুসারীরা। 
পরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সহযোগিতায় তাঁদের গাড়ি বিক্ষোভস্থল থেকে চান্দিনা সড়ক দিয়ে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌরসভার এসএ সরকারি কলেজ রোডে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। 
দলীয় একটি সূত্র জানায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেবিদ্বারে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির দুটি পক্ষ। একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফ এম তারেক মুন্সী। অন্য পক্ষের কর্মসূচির আয়োজন করে দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে।   
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দেবিদ্বার নিউমার্কেট চত্ত্বরের রহমানিয়া সুপার মার্কেট এলাকায় সমাবেশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য কুমিল্লা-৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশেদা বেগম হীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য  সাইদুর রহমান লিটন, সাবেক ছাত্রদলনেতা এমএ আবদুল আউয়াল খান এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম। সমাবেশ শেষে তাঁরা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যান। 
অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও এএফএম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বে বিকাল ৫টার দিকে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের বাঁধা পেরিয়ে তাঁরা এসএ সরকারি কলেজ রোডের দিকে যেতে থাকেন।  এদিকে, উপজেলা বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল শেষে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরাসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা ফেরার পথে তাদের গাড়ি কলেজ রোড ও চান্দিনা সড়কে অবরুদ্ধ করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দালালি আর করিস না রে, পিঠের চামড়া থাকবে না রে’ এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন গালাগাল করতে থাকেন। পাশাপাশি গাড়িতে চর থাপ্পড় আঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এফ এম তারেক মুন্সীসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের গাড়ির সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের থামানো যায়নি। একপর্যায়ে গাড়ি বহরের শেষে থাকা আবদুল আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা। 
দলীয় একটি সূত্র জানায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের সই একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাশেম। উত্তর জেলা বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই মঞ্জু মুন্সীর অনুসারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। 
এই বিষয়ে ঢাকা গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ আউয়াল খান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও মিছিল শেষ করে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা আপাসহ আমরা কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এসএ সরকারি কলেজ রোড পার হচ্ছিলাম। এসময় মঞ্জু মুন্সীর অনুসারীরা একটি মিছিল নিয়ে এসে আমাদের গাড়ি আটকিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সহায়তায় হীরা আপার গাড়ি পার হতে পারলেও বহরের শেষে থাকা আমার গাড়িতে ভাঙচুর চালায় তারা। আমি বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অবগত করেছি। তারা আমাকে বলেছেন এই ঘটনায়  উস্কানিদাতাসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে। 
এই বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রাশেদা বেগম হীরা বলেন, আমরা দলীয় ভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন করেছি। ওনারাও আলাদাভাবে একই সমাবেশ পালন করে। ওখানে আমাকে যেতে দাওয়াত করেছিলো, ওটা যেহেতু সংগঠনের অনুমোদিত কমিটির না। আমি তো ওখানে যেতে পারি না। আমি বলেছিলাম তাদেরকে একসাথে করতে। আমি জানতাম এক সাথেই করা হচ্ছে। কিন্তু আমি সমাবেশে এসে জানতে পারি আলাদাভাবে করা হচ্ছে। পরে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে থ্রেট করেছে । বিষয়টি ওসি সাহেবও জানে। ওরা আমার গাড়ি অবরুদ্ধ করে ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিয়ে আমার গাড়িতে আক্রমন করে। পুলিশ এসে বাধাও দিয়েছে। তারপর ওরা আমার গাড়ির সামনে এসে জসিম, আউয়াল ও সংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভাইকেও প্রচুর গালাগালি করছে। পরে আউয়ালের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে।   
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারী এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, ‘আমরা হাইস্কুল মাঠে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করেছি। তাঁরা মিছিল শেষে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি দেখে আমাদের কিছু নেতা-কর্মী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আমি নিজে সংসদ সদস্য হীরা আপার গাড়ির সামনে গিয়ে নেতা-কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিই এবং তাঁর গাড়িটি নিরাপদে বের করে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। পরে শুনেছি, এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে গাড়ি ভাঙচুরের সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ওনারা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি সামনে পড়ছিলো। আমরা ধাক্কা দিয়ে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করে দিয়েছি। এএম আউয়াল খানের গাড়ির সামনে গ্øাসে কেউ জোরে থাপ্পর দেয়াতে গ্øাসটা ভেঙে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। 



















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২