নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার কলেজটিতে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি এম কে সিং। এসময় তিনি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের স্থান, কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এসময় তিনি নিহত আদনান আলতাফের মায়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং কলেজটির বিষয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করেন।
এর আগে গত বুধবার কুমিল্লার ইষ্টার্ন মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে নিখোঁজের ২ দিন পর আদনান আলতাফ নামে এক ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সকালে কলেজ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আদনান ভারতের জম্মু-কাশ্মীর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর আদনান তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। পড়াশোনায় কিছুটা অমনোযোগী থাকায় পরিবারের সদস্যরা অনেকটা জোর করেই তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। গত ২ নভেম্বর রাতে তিনি কলেজের হোস্টেল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তাঁর মা পরদিন বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে বুধবার সকালে কলেজ সংলগ্ন পুকুরে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
আদনানের মৃত্যুর ঘটনায় ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পরদিন কলেজটির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে পরিদর্শনে আসলেনভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি এম কে সিং।
এসময় ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. সেলিম, পরিচালক অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলম, কলেজ অধ্যক্ষ মো. জাকিরুল ইসলাম, বুড়িচং থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
