ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি গত ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) উপজেলার ৩ নং চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের দেলু ডাক্তার বাড়িতে ঘটে। ওই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে প্রথম দফায় বাড়িঘর ভাঙচুর এবং বিকেল আনুমানিক ৪টায় দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম (৪৫) ওই গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ অক্টোবর সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘরের টিনের বেড়া, দেয়াল ও চালা খুলে ফেলেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় নগদ টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন লুটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০), মৃত জয়দল হোসেনের ছেলে সবুজ (৪০), মৃত ইয়াছিনের ছেলে ময়নাল হোসেন (৫০), সবুজের ছেলে সজিব (১৮), মৃত জয়দল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম (৩৫), মৃত আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল মালেক (৫৫), আক্তার হোসেনের ছেলে আরাফাত (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন।
দ্বিতীয় দফায় ফের হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
এদিকে একই ঘটনায় মো. সামিউল (৩০) নামে অপর এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় আরেকটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে ভাঙচুরের ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আবারও হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় সামিউলের ছোট বোন মাকসুদা আক্তারকে (১৯) মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ ছাড়া হামলার সময় বাঁচাতে এগিয়ে এলে সুমি আক্তার নামে আরেক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং তাঁদের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দফার এ হামলায় নারী ও শিশুসহ তিনজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন-মোস্তফার মেয়ে মাকসুদা আক্তার (১৯), এনামুল হকের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিফা এবং একই এলাকার কাইয়ুম (৩২)। আহত মাকসুদা ও শিশু আদিফাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কাইয়ুম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০), মৃত আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল মালেক, শশীদল ইউনিয়নের সাজঘর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে রাসেল (২২), মৃত আবদুল গফুরের ছেলে শাহজাহান (৪৩), মৃত রহিমের ছেলে শাহ আলম (৩২), বাবুল হোসেনের ছেলে মো. রাজিব (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
