শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রাহ্মণপাড়ায় সাপের আতঙ্ক: এক বাড়ি থেকেই ৫২বিষধর সাপ উদ্ধার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ১:২৯ এএম |

ব্রাহ্মণপাড়ায় সাপের আতঙ্ক: এক বাড়ি থেকেই ৫২বিষধর সাপ উদ্ধারইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে সাপের আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। একের পর এক বসতঘর থেকে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপ বের হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার ধান্যদৌল এলাকার গুচ্ছগ্রামের একটি বাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে ৫০টি সাপের বাচ্চা ও ২টি বড় সাপ ধরেছেন এক সাপুড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে সাপ নিয়ে আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২২ অক্টোবর সামসু মাস্টারের বাড়ি থেকে ২২টি বিষধর সাপ মেরে ফেলা হয়। এর পর থেকেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপের দেখা মেলায় মানুষের ভয় আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে ধান্যদৌল গুচ্ছগ্রামের আজিজ মিয়ার বাড়ির জালালের ঘরে একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে সেটি পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর একই বাড়িতে আরও একটি সাপের বাচ্চা দেখা গেলে সেটিও মেরে ফেলা হয়। গত ২৮ অক্টোবর একই বাড়ির মানিকের ঘরের সামনে আরও একটি সাপ মারা হয়। একই দিন আজিজ মিয়ার ঘরের সামনেও একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পেয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয়রা।
এভাবে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় বাড়ির লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে রাজু কবিরাজ নামে এক সাপুড়েকে খবর দেওয়া হয়।
গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে রাজু কবিরাজ আজিজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে সাপ ধরার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাড়ির একাধিক ঘর থেকে একের পর এক সাপের বাচ্চা ও বড় সাপ বেরিয়ে আসে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহজাহানের ঘরের একটি ছোট ব্যাগের ভেতর থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা বের করা হয়। একই ঘরের পুরনো কাগজে ভেতর থেকেও একটি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। আলমের ঘর থেকে চার-পাঁচটি সাপের বাচ্চা বের হয়। বাদশা মিয়ার ঘরে বস্তার নিচ থেকে আট থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। এ ছাড়া আলমের ঘরের মুরগির খোঁয়াড়ের নিচ থেকে একটি বড় সাপ এবং কাউসারের ঘর থেকে আরেকটি বড় সাপ ও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা ধরা হয়। আলামিনের ঘর থেকেও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা বের করা হয়।
সব মিলিয়ে সাপুড়ে রাজু কবিরাজ ওই বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ উদ্ধারের দাবি করেন। এর মধ্যে দুটি সাপের বাচ্চা মারা যায় এবং বাকি সাপগুলো তিনি নিজের সাথে নিয়ে যান।
সাপ ধরার বিষয়ে সাপুড়ে রাজু কবিরাজ বলেন, "ওই বাড়ি থেকে মোট ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সাপের বাচ্চা মারা গেছে। বাকি জীবিত সাপগুলো আমি নিয়ে এসেছি।"
একই বাড়ির একাধিক ঘর থেকে এভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে সাপ বের হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের ভীতি আরও বেড়েছে। ঘরের ব্যাগ, বই, বস্তা কিংবা মুরগির খোঁয়াড়ের নিচে সাপ পাওয়ার ঘটনায় নিজেদের বসতঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না অনেকে। কখন কোন ঘর থেকে সাপ বেরিয়ে আসে, সেই আশঙ্কায় শিশুদের একা ছেড়ে দিতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আশপাশের বাড়ি কিংবা বসতঘরের অন্য কোনো স্থানে বা গোপন গর্তে আরও সাপ থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক বলেন, "ধান্যদৌল গুচ্ছগ্রামের একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সাপ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এলাকায় যাতে সাপের কামড়ে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি বন বিভাগ বা অভিজ্ঞ সাপুড়েদের সহায়তায় ওই এলাকায় আরও কোনো সাপের বাসা বা গর্ত আছে কি না, তা খুঁজে বের করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২