
ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ সোমবার থেকে কুমিল্লা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যাবে। রাত ১১টা ৫৬মিনিটে কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেনটি পৌছার কথা রয়েছে এবং রাত ১১টা ৫৮মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা ছেড়ে যাবে ট্রেনটি।
জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতিক্ষিত রেলপথে কুমিল্লা থেকে সরাসরি পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সাথে সরাসরি রেলযোগাযোগের ব্যবস্থা হলেও নির্ধারিত আসন সংখ্যার কারণে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। তবে অনেকেই আজ প্রথম দিনের রেল চলাচলের সাথে স্বপ্নের রেল পথে কক্সবাজার ভ্রমণকে স্মৃতিতে ধরে রাখতে ‘ষ্ট্যান্ডিং’ টিকেটে ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। গত ১৬ অক্টোবর টিকেট বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধনের দিন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু মানুষ এই অল্প কটি আসনের বিপরীতে টিকেট ক্রয়ের জন্যই তীর্থের কাকের মতো প্রতিক্ষায় ছিল। তবে সৌভাগ্যবান ৫৪ জন কাঙ্খিত টিকেট ক্রয় করতে পেরেছে। আবার অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে রেখেছেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বর্ধিত পথের এই যাত্রায় রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করবে ট্রেনটি। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে কমলাপুর স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কক্সবাজার পর্যন্ত এই যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে। চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ২টা ৪০ মিনিটে। সেখানে বিরতির পর রাত তিনটায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। গন্তব্যে পৌঁছাবে সকাল ৬টায়।ফিরতি যাত্রায় ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে ছাড়বে সকাল ৯টায়। চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে বেলা ১২টা ১০ মিনিটে। যাত্রা বিরতি শেষে আবার ছাড়বে ১২টা ৩০ মিনিটে। ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এই ট্রেনটির প্রতি যাত্রা শেষ করতে সময় লাগবে সাড়ে ৯ ঘণ্টা।ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসার পর মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে ১১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিবে।স্টেশনগুলো হল- ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশন।তবে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটির কক্সবাজার যাত্রায় আগের নির্ধারিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।বর্তমানে ঢাকা থেকে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে পথে চলাচল করে।ঢাকা থেকে চলা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম ছাড়া মধ্যবর্তী অন্য কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় না।অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করে।মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচে আসন সংখ্যা থাকে সর্বোচ্চ ৭৩৬টি পর্যন্ত। ট্রেনটি সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্তপ্রতিদিন এই রুটে চলে। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে রোববার।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সব পস্তুুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।“মন্ত্রী মহোদয় এই যাত্রা উদ্বোধন করবেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে আগে চলার সময় যে স্টেশনগুলোতে মহানগর এক্সপ্রেস থামত, তারমধ্যে শুধু কুমিরা স্টেশনটি বাদে বাকি স্টেশনগুলোতে এখনো ট্রেনটি থামবে। এসব স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবেন।”সোমবার ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রথম যাত্রায় আগের মতই ১৬টি কোচই থাকছে বলে জানান পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “যাত্রীদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে কোচ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সাবাজারের পথে চলাচলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টকে জানানো হয়েছিল।
