
৫ নভেম্বর থেকে শুরু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। স্বাগতিক বাংলাদেশ আজ থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে একবারই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিল। দুই দশক পর আবার বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হামজা-সামিতদের সাথে ফারহান-সুকিরা যোগ দেয়ায় বাংলাদেশের শক্তি বেড়েছে অনেক। ভারত শক্তিশালী দল প্রেরণ করছে না। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের শিরোপার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ক্যাম্প শুরুর প্রথম দিনেই কোচকে এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আমেরিকার অধিনায়কত্ব করা থমাস ডুলি শিরোপা জেতা সম্ভবই মনে করছেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় যদি নিজের সেরাটা মাঠে দিতে পারে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। আমি সত্যিই এ ব্যাপারে আশাবাদী। আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর আমার বিশ্বাস আছে।’
আশা ব্যক্ত করে আবার বাস্তবতায় ফিরে গেছেন। মাঠে নামলে বাংলাদেশের ফুটবলারদের ভুল করা কিংবা কৌশল বাস্তবায়ন না করতে পারা পুরনো অভ্যাস। সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে খেলোয়াড়রা মানুষ, রোবট নয়। অনুশীলনে বারবার পাসিং অনুশীলন করা হয়, ভালো ভালো ম্যাচ খেলা হয়। কিন্তু আসল ম্যাচ শুরু হলে একজন খেলোয়াড় নার্ভাস হয়ে পড়তে পারে। যে বলটি ঠিক জায়গায় দেওয়ার কথা, সেটি অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গতকাল কিংসের ম্যাচে আমি কয়েকজন খেলোয়াড়কে দারুণ খেলতে দেখেছি। তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলে কেন সেই পারফরম্যান্স দেখাতে পারে না। তারা যদি নিজেদের দক্ষতা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে কাজে লাগাতে পারে এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে, তাহলে আমাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
ফুটবলপ্রেমীরা ফুটবলারদের উৎসাহ দেন আবার অনেক সময় কড়া সমালোচনাও করেন। এতে ফুটবলাররা প্রভাবিত হন কিংবা চাপে পড়েন বলে মনে করেন কোচ, ‘কিছু খেলোয়াড়ের মনে আবার ফেসবুকে তাদের নিয়ে লেখা নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনার কথাও ঘুরতে থাকে। তারা ভাবে, মানুষ তাদের ঘৃণা করছে। আপনিও যদি এমন পরিস্থিতিতে থাকেন, তাহলে আপনার পক্ষে শতভাগ মনোযোগ দিয়ে কাজ করা কঠিন হবে। তাই খেলোয়াড়রা যদি মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকে, অনুপ্রাণিত থাকে এবং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। আমি প্রায় নিশ্চিত যে আমরা সেটা করতে পারি।’
সাফের জন্য ডুলি ২৮ জন খেলোয়াড়ের নাম জমা দিয়েছেন। সেই দলে নতুন মুখ মাহি খান ও রোনান। তাদের নেয়ার কারণ নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা একজন প্রকৃত নম্বর নাইন বা সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছি। আমাদের সেই ধরনের স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। আগে যেসব খেলোয়াড়কে আমরা নম্বর নাইন হিসেবে পরীক্ষা করেছি, তারা এই পজিশনের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। কারণ একজন প্রকৃত নম্বর নাইন হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু গুণ থাকতে হয়।’
ঘরোয়া ফুটবলে মোহামেডানের সৌরভ দেওয়ান ভালোই খেলছিলেন। তাকে কেন বিবেচনা করা হয়নি? এ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে একটু মতপার্থক্য হয় কোচের, ‘অনেকে নেই, যারা নেই তাদের নিয়ে প্রশ্ন না করে, যারা আছে তাদের নিয়ে প্রশ্ন করেন।’
কোচ বলেছেন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করেছেন। জিকো কিংসের হয়ে চলতি মৌসুমে কোনো গোল হজম করেননি। তিনি ডাক পাননি অথচ অন্যরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে এ নিয়ে ডুলির উত্তর, 'দেখুন, সব গোলরক্ষকই ক্যাম্পে এসেছিল এবং অনুশীলন করেছে। আমাদের একজন গোলরক্ষক কোচ রয়েছেন, যিনি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের নিয়ে কাজ করেন। আমরা অনুশীলনে তাদের পারফরম্যান্স দেখি। এরপর সবাই মিলে আলোচনা করি-কার মধ্যে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, কাকে নিয়ে আমরা বেশি নিশ্চিন্ত বোধ করছি এবং কে নিজের কাজ সম্পন্ন করতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করছে।'
'আমাদের পাঁচজন গোলরক্ষকের মধ্যে তিনজন অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে ছিল। কেউ একটু দ্রুত, কেউ বেশি নির্ভরযোগ্য, কেউ বেশি উঁচুতে লাফ দিতে পারে, আবার কারও অভিজ্ঞতা বেশি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কে মাঠে গিয়ে দলের হয়ে কাজটা সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারবে। এ বিষয়ে আপনার মতামত এক রকম হতে পারে, অন্য কারও মতামত অন্য রকম হতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের, তাই আমরা সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
