এমএ কাশেম ভূঁইয়া-হোমনা ।।
কুমিল্লার হোমনায় নিখোঁজের ২২দিন পেরিয়ে গেলেও কোন সন্ধান মিলেনি বাহরাইন প্রবাসী মোঃ ইকরামুল হকের।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দুলালপুর বাজার ব্রিজের উপর ইকরামুলের দ্রুত সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
গত ৩অক্টোবর বাড়ী থেকে রুবেল নামে এক যুবকের সাথে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি ইকরামুল। তবে তার ব্যবহৃত চশমা, মোটরসাইকেলের চাবি ও মোটরসাইকেল পাওয়া যায় ওই রুবেল এর মাধ্যমেই। তবে পুলিশ বলছে, রুবেলকে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোন তথ্য মিলেনি।
নিখোঁজ প্রবাসী ইকরামুল হক দুলালপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ছৌদ্দির বাড়ির আব্দুস সালাম মাস্টারের ছোট ছেলে ও দুলালপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. শ্যামল মাহমুদের ছোট ভাই। ইকরামুলের পাঁচ বছর বয়সি ও ৯ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।
মানববন্ধন বক্তারা বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন ইকরামুল এবং গত ৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তিনি দৌলতপুর থেকে হোমনা পৌর সভার বাগমারা গ্রামে মজিবর নামের এক ব্যক্তির বাড়ীতে প্রবাস থেকে দেয়া মাল-সামানা দেয়ার কথা বলে বের হন সে। তার সাথে ছিলো আলীপুর এলাকার রুবেল নামের এক যুবক। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ইমু-হোয়াটসএ্যাপগুলো বন্ধ রয়েছে।
এ ঘটনায় হোমনা থানায় নিখোঁজ বিষয় উল্লেখ্য করে সাধারণ ডায়েরিও (জি.ডি) করা হয়েছে। নিখোঁজের ২২দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
মানববন্ধনে নিখোঁজ ইকরামুলের সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন, দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, সহ-সভাপতি অরুণ সরকার ও শাহ জালাল প্রধান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. মজিবুর রহমান বাঘা, দুলালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, কৃষকদলের সভাপতি মো. ইয়ানুছ মিয়া প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, যুবদল নেতা জামশেদ, স্থানীয় সমাজ সেবক নবী হোসেন বাঘা, নিখোঁজ প্রবাসীর বড় ভাই মো. শ্যামল মাহমুদ, মা লিলি আক্তার, স্ত্রী সামিয়া আক্তার বকুল,
শ্বাশুরী সেলিনা আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধনে ইকরামুলের বড় ভাই শ্যামল মাহমুদ বলেন, “আমার ভাই ২২দিন ধরে নিখোঁজ। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। প্রশাসন বলছে, তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু এত দিনেও আমার ভাইয়ের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আলীপুর গ্রামের রুবেল নামের একজন আমার ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমার ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আমরা আশা করছি। মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার ভাইকে দ্রুত উদ্ধার করে দিন।
এ সময় ইকরামুলের মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন,“দয়া করে আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। আমার ছেলের জন্য আমি ও পরিবারের সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ছোট দুইটি সন্তান বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। দয়া করে আমার ছেলেকে ভিক্ষা দিন।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ টমাস বড়ুয়া জানান, নিখোঁজ প্রবাসীর সন্ধান পেতে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তিকে তারা ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ও.সি আরো জানান, এই ঘটনায় তাদের কোন গাফিলতি নেই; পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও ডি.বিও কাজ করে যাচ্ছেন।
মানববন্ধনে দৌলতপুর, মিঠাইভাঙ্গা, দুলালপুরসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা নিখোঁজ ইকরামুল হকের সন্ধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
