
বিদ্রোহ থেকে আনুগত্যের উদাহরণ তৈরি করল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন(এএফসি)। বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতার স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলেও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির তোপের মুখে পড়েছিল। এবার পক্ষ পরিবর্তন করল এশিয়া, যা ফিফা প্রধান হিসেবে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার দৌড়কে নতুন রূপ দিলো।
টোকিওতে এক অপ্রত্যাশিত উপহার পেলেন ইনফান্তিনো। তার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিরোধের ইতি টেনে তার পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানাল এএফসি। আগামী মার্চের নির্বাচনের আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।
শুক্রবার টোকিওতে ইনফান্তিনোকে সামনে রেখেই এশিয়ান কনফেডারেশনের বৈঠকে তার প্রতি সমর্থনের ঘোষণা দেন এএফসি প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা। আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের শীর্ষ পদে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়ছেন সুইস-ইতালিয়ান প্রশাসক।
এশিয়ান কনফেডারেশনের অফিসিয়াল য়েবসাইটে শেখ সালমান বলেছেন, ‘ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনি যখন লড়ছেন, তখন আপনাকে ও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমরা আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি মনে করি আপনি এশিয়ার অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। এই মহাদেশের অনেক সদস্যের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমি আপনার অনুভূতি জানি। আমি মনে করি আপনার প্রতিশ্রুতি পরিষ্কার। জিয়ান্নির প্রতি আপনার সমর্থন খুব স্পষ্ট।’
আগে যে বিরোধ ছিল, সেই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সালমান, ‘জিয়ান্নি, হ্যাঁ, অতীতে আমাদের মধ্যে কিছু সমস্যা হয়েছিল, যা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু দুটো বিষয়কে আমরা এক করে না দেখি। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যখন আমরা একসঙ্গে কাজ করি তখন ফুটবল শক্তিশালী হয়।’
একটি পরিসংখ্যানই বলে দেবে এএফসির সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ার ৪৬টি সদস্য সংস্থা তাকে ভোট দেবে। কেবল উয়েফা ও এর ৫৫ সদস্য এবং ৩৫ সদস্যের কনকাকাফ এখনও তার বিরুদ্ধে।
আগামী মার্চের নির্বাচনের আগে ১৮ নভেম্বর প্রার্থিতা ঘোষণার শেষ দিন। ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার সবচেয়ে প্রভাবশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যার নাম শোনা যাচ্ছে, সেই ভিক্তর মন্তাগলিয়ানি মনে হয় না এই লড়াইয়ে যোগ দেবেন।
