মোঃ এমদাদ উল্যাহ, চৌদ্দগ্রাম ।।
কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলে চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী ও নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ দুই পাড়ের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। প্রতিদিন হুগলি এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নৌকায় নদী পার হয়ে ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। এ দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। তবে দুর্ভোগ কমাতে সম্প্রতি ২৬০ ফুট বাঁশের সাঁকো নির্মাণ শুরু করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নদীর দুই পাড়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, অন্যদিকে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।দীর্ঘদিন ধরে নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু এখনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এলাকাবাসীর অর্থায়নে ফুলের নাওড়ী গ্রামের এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন ও হুগলি এলাকার আবদুল মান্নান ও অলি আহমেদসহ কয়েকজন কঠোর পরিশ্রম করে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। সাঁকো নির্মাণ শেষে হলে চলাচলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের উপকার হবে।
আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেনসহ দুই পাড়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মতে, ডাকাতিয়া নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোক্তা এয়াকুব মজুমদার বলেন, একটি বাঁশের সেতু শুধু দুটি পাড়কে মেলায় না, মানুষের মন ও বন্ধনকেও জোড়া দেয়। আসুন, আমাদের সবার ছোট ছোট সহযোগিতায় গড়ে তুলি এই সেতু, সহজ করি মানুষেরপথ চলা।
ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ডাকাতিয়া নদীর হুগলি পাড় এলাকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে বিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাগবে একটি নির্মাণের শুরু হয়েছে দেখে ভালো লেগেছে। তবে ডাকাতিয়া নদীর উপর সরকারের উদ্যোগে ব্রিজ নির্মাণ হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।
