রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস তৈরি হবে। থাকবে তিনটি বেজমেন্ট, গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এর আগে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর স্থানসংকুলানের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন।
এই চাহিদা পূরণে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একনেকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর।
৩৩ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস:
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনটি বেজমেন্টসহ এসব ভবনে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে।
প্রস্তাবিত নকশায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি পার্কিং হবে ভূ-উপরিস্থ। এ ছাড়া একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থানান্তর পরিকল্পনা এবং ভবনগুলোর কার্যকর ব্যবহারের ওপর।
