কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে
কুপিয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় মো. আবু কাউছার (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশাচালক মো. মাছুম মিয়া। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউছার নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য। তিনি কাপ্তানবাজার এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। মূলত তিনি কুমিল্লা নগর উদ্যানের রাইড ব্যবসায়ি। আবু কাওসার বিএনপি নেতা ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর অনুসারী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার কাউছারের বন্ধু মো. শামীম এবং আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার তানজিল ও তৌহিদের মধ্যে ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। শুক্রবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে শামীম, তার বন্ধু কাউছার, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
নিহত কাউছারের বন্ধু হেলাল উদ্দিন জানান, ওই জমি নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনের জন্য আমাদেরকে সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। তার ভাষ্য, আমরা সেখানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তৌহিদ, তানজিলসহ তাদের লোকজন আমাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা কাউছারকে এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক মো. মাছুম মিয়াকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, মরদেহ দেখতে বিকাল ৪টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরিবারটি বিএনপির জন্য নিবেদিত পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধে এভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশের চেষ্টা চলছে।
আসামির বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর, আগুন:
এদিকে, যুবদলকর্মী কাউছার হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষুব্দ লোকজন গতকাল বিকালে নন্দিরবাজার এলাকায় তৌহিদের বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। বাড়ির একজন ভাড়াটিয়া জানান, হামলাকারীরা একটি চারতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষে ভাংচুরসহ লুটপাট করে ও আগুন দেয়। এসময় এ ভবনের নিচতলায় থাকা একটি এনজিওর অফিসেও ভাংচুর করে আগুন দেয়া হয়। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় আতংকে বাড়ির লোকজন বাসা ছেড়ে চলে যায়।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এদিকে বাড়িঘরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি স্থানীয়দের এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রবিউল্লাহ জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরুপন করা যায়নি।
সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের হামলার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
কাউছারের পরিবারকে বাড়ি গিয়ে স্বান্তনা জানালেন কৃষিমন্ত্রী :
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজারে নিহত যুবদল নেতা কাউসারের মরদেহ দেখতে যান কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। এ সময় তিনি নিহত কাউসারের মরদেহের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন তাঁরা।
জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের শোক :
যুবদল নেতা আবু কাউছার নিহত হবার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তার মৃত্যুর ঘটনার পর খবর পেয়ে হাসপাতালেই তাকে দেখতে যান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। পরে আবু কাউছারের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে উপস্থিত হন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারি আবু, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। এছাড়া আবু কাউছার গুরুতর ভাবে জখমের আসার পর থেকেই তার খোঁজখবর নেন এবং মৃত্যুর পর ও দাফন কাফনের সময় সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।
