
জয়ের লক্ষ্য পাহাড়সম ৪৭৯ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল সফরকারীরা।
দুজনের ৮২ রানের জুটি ভেঙে আবারও বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন এবাদত হোসেন। অর্ধশতক পূরণের পর রহমতকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন এই পেসার। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে আফগানিস্তান।
ম্যাচ জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৭ উইকেট। অন্যদিকে, আফগানদের সামনে ৯০ ওভারে আরো ৩৪৭ রান তোলার কঠিন সমীকরণ।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই বল হাতে সাফল্য পান এবাদত হোসেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৫ বলে ২ রান করা আবদুল মালিককে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।
এরপর বাংলাদেশের সাফল্যের খাতায় নাম লেখান হাসান মাহমুদ। তার বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৯ বলে ১৯ রান করা শহিদুল্লাহ। তাতে ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর অবশ্য আর উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা।
রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতাল মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে জমে ওঠে জুটি, যা বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠছিল দুশ্চিন্তার কারণ। স্পিন আক্রমণেও কাজ না হওয়ায় আবারও এবাদতকে বোলিংয়ে ফেরান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে দেরি করেননি এবাদত। রহমত ও আতালের ৮২ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন তিনি। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১২৪ বলে ৫১ রান করা রহমত শাহ। তার বিদায়ে স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ শিবিরে।
রহমতের ক্যাচ ধরেই উইকেটকিপার হিসেবে এক টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন লিটন। খালেদ মাসুদের সাতটি ডিসমিসালের রেকর্ড ছাড়িয়ে তার নামের পাশে এখন আটটি ডিসমিসাল।
দিনের বাকি সময়টা সামলে নেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমাতুল্লাহ শহিদি। তাদের জুটিতে আর কোনো উইকেট হারায়নি আফগানিস্তান। ফলে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করবে আফগানরা।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২, মুশফিকুর রহিমের ৮১ এবং লিটন দাসের ১০২ রানের ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের রান যোগ করে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৪৬ রান। জবাবে রহমত শাহর অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
