
মাত্র একদিন আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরী। ইহরাম পরিহিত অবস্থায় বিমানে বসে ছবিও প্রকাশ করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গন্তব্যে পৌঁছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নির্বিঘ্ন সফরের জন্য চেয়েছিলেন সবার দোয়া। কিন্তু সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হোন নাসারুল্লাহ।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদে পরিবার ও স্বজনসহ নাঙ্গলকোটের পুরো বদরপুর গ্ৰামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওলামা বাড়িতে। তাঁর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী মাহহুবা, দুই ছেলে জামিল (৭) ও জায়ায (২) এবং মেয়ে নাবিলা (৫)।
ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নাসারুল্লাহ এর বড় বোনের জামাই মাওঃ নাছির উদ্দিন জানান, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ওমরাহ পালনের জন্য ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে 'আর রিয়াদ' বিমানে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় রাজধানীর রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে পৌঁছান। যেখানে দুই ঘণ্টার বিরতি শেষে আবারও একই বিমানে মক্কার বিমানে উঠেন। বিমানে উঠার পরপরই আর রিয়াদ বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রবিবার এয়ারলাইন্স থেকে নাসরুল্লাহ মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি ডেট সার্টিফিকেট পাঠানো হয় আমাদের কাছে।
তিনি আরও জানান, নাসরুল্লাহ দাফনের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে এবং সরকারের কাছে আবেদন করছি যাতে করে তার মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রবিউল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তাঁর পিতা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ 'ইসলামিয়া আরাবিয়া ফয়জুল উলুম সিঙ্গরিয়া মাদ্রাসা'র সদরে মুহতামিম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বদরপুরের বিখ্যাত 'ওলামা বাড়ি' হিসেবে পরিচিত।
‘জীবনের
সেরা সফর’,
শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন সৌদিতে নিহত নাসরুল্লাহ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি উমরাহ যাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।
উমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গিয়ে সফরের বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতি ফেসবুকে শেয়ার করছিলেন নাসরুল্লাহ। বিমানবন্দরে হামলার আগে দেওয়া তার শেষ ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘জীবনের সেরা সফর’।
রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের কাফেলা নিরাপদে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
‘জীবনের সেরা সফরের পথে প্রতিটি মুহূর্ত কাটুক মহান রবের অশেষ রহমত ও মেহেরবানিতে। আজকের জোহরের সালাতও এখানেই। বাকি সফরটুকুও যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়।’
জেদ্দাগামী ফ্লাইটের জন্য অন্য সহযাত্রীদের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ। এর মধ্যেই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নাসরুল্লাহ ছাড়াও আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তার নাম মো. শাহেদ আহম্মেদ। তার বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুরে।
