
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছয় বছরের এক এতিম শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে নির্জন করে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে বৈঠকে অভিযুক্ত ওই যুবককে ১০টি জুতাপেটা ও ৫ হাজার টাকায় জরিমানা শেষে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুরে ইউনিয়নের কুরুইন বেপারি বাড়ির একটি নির্জন ঘরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম (২২) উপজেলার কুরুইন বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। ঘটনার পর পালিেেয় যায়।
স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির পরিবার এলাকায় নিরীহ দরিদ্র হওয়ায় চাপসৃষ্টি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে গ্রামের মাতাব্বররা। পরে এই ঘটনার ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে জোরপূর্বক বিচার শালিস নিতে বাধ্য করেন তারা। শালিসের দরবারের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে ভুক্তভোগী ওই শিশুটির চাচী বাদি হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্র্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
এদিকে, ১০ টি জুতাপেটা ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা বিচার না মানায় সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। মারামারি এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মাজহারুলের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বেপারীকে বেধরক মারধর করে ক্ষুব্ধ শিশুটির স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে রাতেই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত মাজহরুল।
শিশুটির চাচী বলেন, ২০২৪ সালে শিশুটির বাবাকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। এরপর আর শিশুটির বাবার আর খোঁজ নেই। তখন শিশুটির বয়স তিন বছর। এরপর থেকে শিশুটিকে আমি দেখাশোনা করে আসছি। গত সোমবার বিকালে শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ঘর থেক ফুঁসলিয়ে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায় মাজহারুল। পরে তাকে বিবস্র করে ধর্ষণচেষ্টা চালায় সে। এ সময় শিশুটির ফুফু মাজহারুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশে বৈঠকের মাধ্যমে বিচারের আশ^াস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এই ঘটনা কাউকে না জানাতে কয়েকজন প্রভাবশালী আমাদেরকে চাপ দেন। এক পর্যাায়ে ঘটনাটিকে মিথ্যা ও সাজানো প্রমাণ করতে ৯ অক্টোবর মানববন্ধনের কর্মসূচির পালন করে করেন গ্রামের প্রভাবশালীরা। এরপর রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আমি নিজে বাদি হয়ে দেবিদ্বার থানায় গিয়ে মামলা করি।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। তার পরিবার প্রথমে গ্রাম্য সালিশে গিয়েছিল। সেখানে তাকে জোরপূর্বক বিচার মানার জন্য চাপসৃষ্টি করা হয়। সালিশে সমাধান না হওয়ায় ঘটনার চার দিন পর শিশুটির চাচী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে অভিযুক্ত মাজহারুল ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত মাজহারুলকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
