সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বর্বরোচিত হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক সহ কয়েকজন হতাহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, উদ্বেগ এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
ঘটনার পরপরই ধর্মমন্ত্রী সরাসরি ভুক্তভোগী উমরাহ কাফেলার জিম্মাদার মোহাম্মদ আলী কাশেমীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রবাসী বাংলাদেশি ও উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি রাতভর তদারকি করেন এবং তাঁদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেন।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, “সৌদি আরব সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন ও অত্যন্ত পবিত্র ভূমি। আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফ এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক এ দেশেই অবস্থিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সাথে পুরো মুসলিম বিশ্বের আবেগ জড়িত। ফলে পবিত্র এই ভূমিতে যেকোনো ধরনের হামলা মুসলিম বিশ্ব কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে এ ধরনের সহিংসতা ও বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সৌদি আরবের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিক ও উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসম্মত চিকিৎসা, আবাসন ব্যবস্থা এবং মক্কা-মদিনায় নির্বিঘ্নে চলাচলের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কোনো বাংলাদেশি যেন ভোগান্তিতে না পড়েন এবং সবাই যেন নিরাপদে উমরাহ সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে পারেন, সেজন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
হামলার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, আহত বাংলাদেশিদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখায় সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ভ্রাতৃপ্রতিম। যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে থাকবে। শেষে তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
