
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম ও একমাত্র মহিলা নবাব নারী জাগরণ ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত একুশে পদক প্রাপ্ত (মরণোত্তর) প্রজাহিতৈষী জমিদার মহিয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সেই মহিয়সী নারীর ১২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী।
দিবসটি উপলক্ষে লাকসাম উপজেলা প্রশাসন, নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর (জাতীয় জাদুঘরের শাখা), নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ, নবাব ফয়জুন্নেছা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠণ পৃথক পৃথক ভাবে এই মহিয়সী নারীর মৃত্যু বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যদায় পালনে নানাহ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া মুনাজাত এবং আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ১২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন (তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার হোমনাবাদ পরগণা) পশ্চিমগাঁও জমিদার পরিবারে ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জমিদার আহমেদ আলী চৌধুরী ও আরফান্নেছা চৌধুরাণীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে প্রথম কন্যা সন্তান ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। তাঁর বাবা আহমেদ আলী চৌধুরীর পূর্ব পুরুষ দিল্লির বাদশাহ শাহ আলমের কাছ থেকে সনদ লাভ করে হোমনাবাদ পরগণার জমিদার হন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরীরাণী ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর এই ধরাধাম ত্যাগ করেন। নিজ বাড়ির পশ্চিম দিকে তাঁরই নির্মিত স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শণ দশ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই মহিয়সী নারী।
