
বার্সেলোনার ভাগ্যটা ভালোই বলতে হয়। তর্কাতীতভাবে ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফুটবলার কাতালান ক্লাবটির হয়ে কত ইতিহাস যে লিখেছেন! দীর্ঘ সময়জুড়ে বার্সার একটি পুরো স্বর্ণযুগকে নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে বার্সার প্রতি তাঁর এই অবিচল আনুগত্য ছিল শুধুই হৃদয়ের টানে, প্রস্তাবের অভাবে নয়।
লিওনেল মেসির মতো ‘সোনার হরিণকে’ নিজেদের দলে নিতে ইউরোপের ধনী ক্লাবগুলো একের পর এক লোভনীয় চেষ্টা চালিয়ে গেছে। আর্জেন্টাইন জাদুকরকে দলে ভেড়ানোর সেই চেষ্টা কতটা অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সম্প্রতি তা ফাঁস করেছেন ইন্টার মিলানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাসিমো মোরাত্তি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ত-কে দেওয়া বক্তব্যে মোরাত্তি দাবি করেন, ২০১২ সালে মেসিকে দলে টানতে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ইউরোর এক আকাশচুম্বী প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি! ইন্টার সভাপতি তখন আর্থিক সীমার সব দেয়াল ভেঙে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বার্সেলোনা ছাড়ার ব্যাপারে মেসির অনীহা এতটাই তীব্র ছিল যে, মোরাত্তির পাঠানো সেই প্রস্তাবের চিঠিটি তিনি খুলে দেখার প্রয়োজনও বোধ করেননি!
সেই চাঞ্চল্যকর স্মৃতির কথা টেনে মোরাত্তি বলেন, ‘২০১২ সালে আমি আক্ষরিক অর্থেই একটা বড়সর পাগলামি করেছিলাম।’
মোরাত্তি বলেন, ‘আমি মেসিকে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই অঙ্কটা ছিল স্রেফ কল্পনাতীত ও পাগল করা।’ আলোচনা চালাতে ইন্টার মিলানের সহ-সভাপতিকে বার্সেলোনায় পাঠিয়েছিলেন মোরাত্তি, তবে সেই চেষ্টায় বিন্দুমাত্র কাজ হয়নি।
ইন্টার মিলানের সাবেক এই সভাপতি আরও জানান, ‘মেসি চিঠিটি খুলে দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি, অফারে কী ছিল তাও জানার চেষ্টা করেনি। বিস্তারিত কোনো কিছু না জেনেই সে প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করে। সে নিজেকে এমন এক ফুটবলার মনে করত, যাকে ক্যারিয়ারজুড়ে কখনোই অন্য কোনো ক্লাবের কাছে বিক্রি করা সম্ভব নয়।’
পরবর্তীতে সরাসরি মেসির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হন মোরাত্তি, তবে সেখানেও উত্তর বদলায়নি। মেসি তাঁকে সোজা জানিয়ে দেন, ‘আমার প্রতি আপনার এই আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ, তবে আমি বার্সেলোনাতেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে চাই।’
বার্সার প্রতি মেসির এই আবেগ সম্পর্কে জানা থাকলেও, আকাশচুম্বী এই অর্থের প্রস্তাবে হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে এমন আশাই করেছিলেন ইন্টারের তৎকালীন প্রধান। সাবেক এই সভাপতি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু টাকার টোপ দিয়ে তাঁকে রাজি করানোর একটা চেষ্টা চালিয়েছিলাম। বলা বাহুল্য, তা মোটেও কাজ করেনি।’
২০১২ সালেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছিলেন মেসি। চাইলে চোখের পলকে যেকোনো পরাশক্তি ক্লাবে যোগ দিতে পারতেন তিনি। তবে তাঁর অবস্থান ছিল একরোখা ও পরিষ্কার—পেশাদার ক্যারিয়ারের পুরোটাই কাটাতে চান প্রিয় ক্লাবে। আর যে ক্লাবকে তিনি এতটা ভালোবাসতেন, শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে সেখান থেকেই তাঁর এমন অশ্রুসজল বিদায় ক্লাবটির আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম ট্র্যাজিক ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
