কুমিল্লার দেবিদ্বারে চিকিৎসাসেবায় নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ১০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানকালে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকের নামে মিথ্যা প্রচারণা এবং রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া। এছাড়া কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের দুটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করেন।
জরিমানাকৃত হাসপাতাল ও ডায়গনিস্টিক সেন্টারগুলো হলো, বাগুর মা মনি মেডিকেল হাসপাতাল ২০ হাজার, চান্দিনা মেডিনোভা হাসপাতালে ২০ হাজার, দেবিদ্বার মনোয়ারা হসপিটাল ৯০হাজার, দেবিদ্বার মেডিক্যাল সেন্টার ৪০হাজার, আব্দুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭০ হাজার, মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৮০হাজার, আলিফ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ৪০ হাজার, গোমতী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৪৫ হাজার, দেবিদ্বার মেডিনোভা হসপিটাল ৫ হাজার এবং এ্যাপোলো হসপিটাল ৮০ হাজার এবং মেডিকমপ্লেক্স হাসপাতাল ৮০ হাজার টাকা। এছাড়াও কয়লা রেস্তোরাকে বাসি/পঁচা খাবার ফ্রিজিং করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০, ৪৪ ও ৫২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে দেবিদ্বার উপজেলার ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার ও একটি রেস্তোরাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানকালে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মূল্য তালিকার চেয়ে পরীক্ষানিরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা বা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করা এবং সরকারি আইন, বিধিমালা ও পরিপত্রে দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এমন অনিয়মের কারণে সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরকারি আইন ও নীতিমালা অমান্য করে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
