বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাঙ্গরায় আনোয়ার মেম্বারকে পুলিশ পাহারায় দাফন, মেলেনি মসজিদের খাটিয়াও
মো. হাবিবুর রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ এএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২৬ ১:৩৫ এএম |



 বাঙ্গরায় আনোয়ার মেম্বারকে পুলিশ পাহারায় দাফন,  মেলেনি মসজিদের খাটিয়াও কুমিল্লার বাঙ্গরায় মধ্যরাতে নিজঘরে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে পুলিশ পাহারায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পেন্নই গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হলেও স্বজনদের অভিযোগ, আনোয়ারের জানাজা-দাফনে মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি মাইকে এলাকাবাসীকে জানাজায় আসতে কড়া নিষেধাজ্ঞাদেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশি পাহারায় থমথমে পরিস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের আনোয়ার মেম্বার (৪৫) পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় দুই নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত আনোয়ার ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই প্রতিপক্ষের ভয়ে এলাকাছাড়া ছিলেন। দীর্ঘদিন পর গত শনিবার দিবাগত রাতে গোপনে বাড়ি ফেরার পর মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিজ ঘরেই নিহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আনোয়ার মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব খাটানো, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও মামলা দেওয়ার একধিক অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালের বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিপক্ষ আনোয়ার মেম্বারকে গ্রামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। প্রাণভয়ে গত তিন বছর ধরে তিনি গ্রামের বাইরে আত্মগোপনে ছিলেন।
গত শনিবার দিবাগত রাতে তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে লুকিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রামের মসজিদের মাইকে "ডাকাত এসেছে" বলে জটলা বাধায় এবং গভীর রাতে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় আনোয়ার মেম্বার মারাত্মক আহত হন এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী মোমেনা বেগমও আক্রান্ত হন। খবর পেয়ে রোববার ভোরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪০-৪৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 
স্বজনরা অভিযোগ করেন, হত্যার পরও ক্ষোভ থামেনি প্রতিপক্ষের। দাফনের জন্য মসজিদের খাটিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানাজায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই ফেরদৌস রনির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্যের কঠোর পাহারায় লাশ দাফন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২