বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন সদস্যের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে সংসদে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
২০০৯ সালের ওই ঘটনার পরে ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদেরও পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্র্বতী সরকারের সময় ক্ষতিপূরণসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি তুলেছিলেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। তারা সেসময় রাজধানীতে আন্দোলনেও নেমেছিলেন।
২০০৯ সালে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হয়ে তারা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন বলে তাদের অভিযোগ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা।
সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়, পরিবর্তন আসে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।
বিদ্রোহের বিচার বিজিবির আদালতে হলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় প্রচলিত আদালতে। এসব মামলায় সাজার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অনেকের চাকরি যায়।
ক্ষমতার পালাবদলে অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের দাবি জোরালো হয়। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়। পরে গতবছর ডিসেম্বরে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার।
অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে কয়েকদফায় কারাবন্দি থাকা বিডিআর সদস্যদের জামিনে মুক্তি পেতে দেখা গেছে। এরমধ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তখনকার সময়ের চাকরিচ্যুত বিডিআর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
