নিজস্ব
প্রতিবেদক।। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ কমানো
এবং কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের জনপদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা
সহজ ও গতিশীল করতে নতুন বিকল্প প্রস্তাবিত মহাসড়কের এলাইনমেন্ট এবং
কোটবাড়ীতে এএইচকে স্যাটেলাইট এডুকেশন সিটি গড়ে তোলার ধারণাপত্রের ওপর
ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় কুমিল্লার টাউন হল মাঠে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে
ধারণাপত্র উপস্থাপকের বক্তব্যে সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক
চৌধুরী বলেন, স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। আগামীর কুমিল্লাকে পরিকল্পিতভাবে
সাজাতে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের
সড়ক ব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে আসছে। মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ তৈরি
হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার
পাশাপাশি ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক এখন শুধু স্বপ্ন নয়। এটি যত দ্রুত
সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যাবে, তত দ্রুত মানুষ এর সুফল পাবে। কুমিল্লার
উত্তরাঞ্চলের জনপদের মানুষ সড়ক ব্যবস্থায় এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তাদের কথাও
আমাদের ভাবতে হচ্ছে। ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ হলে এই জনপদের
মানুষ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা এবং ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ করতে
পারবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়কটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ
উপজেলার সুয়াগাজী থেকে শুরু হয়ে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড অতিক্রম করে
গোলাবাড়ি হয়ে গোমতী নদীর উত্তর পাড় ঘেঁষে বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর,
দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জ, মেটংঘর, শলপা, শ্রীকাইল, রামচন্দ্রপুর ও রূপসদী
এলাকা অতিক্রম করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গিয়ে মিলিত হবে।
এছাড়া
বাঞ্ছারামপুর থেকে প্রস্তাবিত মেঘনা সেতু হয়ে আড়াইহাজারের কাঞ্চন ব্রিজের
সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সড়কটি ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে গিয়ে যুক্ত হলে ঢাকা থেকে
কুমিল্লা এবং কুমিল্লা থেকে ঢাকায় মাত্র দেড় ঘণ্টায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
এতে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যকার দূরত্বও কমবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মনিরুল
হক চৌধুরী আরও বলেন, ইতোমধ্যেই গোমতী নদীর ওপর গোলাবাড়ি ব্রিজ হচ্ছে ৫০
কোটি টাকা ব্যয়ে। এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়ন না হলে
কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের মানুষ বাসা থেকে রাস্তায় বের হওয়ার জায়গা পাবেন না।
এএইচকে
স্যাটেলাইট এডুকেশন সিটি প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আখতার হামিদ খান
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি-বার্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই মানুষটি সমবায় সমিতি
প্রতিষ্ঠা করার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ দুই মুঠো ভাত খেতে শিখেছে। তিনি এই
অঞ্চলের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছেন। অথচ এই ব্যক্তির জীবনের শেষ
সময়টা ছিল অনেক কষ্টের। তিনি কোটবাড়িতে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু
আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা কুমিল্লাকে
উন্নয়নের মাধ্যমে সাজাতে চাই। সেজন্য কোটবাড়িকে আমরা বেছে নিয়েছি। আখতার
হামিদ খানের নামে এএইচকে স্যাটেলাইট এডুকেশন সিটি হিসেবে সাজিয়ে তুলতে চাই।
সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে
ভিজ্যুয়াল ধারণাপত্র দেখলে আপনাদের ধারণা তৈরি হবে, আমরা কুমিল্লাকে কীভাবে
ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।
প্রস্তাবিত এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
করা গেলে কুমিল্লার দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়ন, যানজট নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার
আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে
এসব প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধারণাপত্র উপস্থাপন
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি।
